باب مَنْ قَالَ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ
পরিচ্ছেদ: ঐ সমস্ত লোকের দলীল যারা বলেন যে, কোনো কিছুই নামাযকে ভঙ্গ করে না
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ،. قَالَ الأَعْمَشُ وَحَدَّثَنِي مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، ذُكِرَ عِنْدَهَا مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ وَالْمَرْأَةُ فَقَالَتْ شَبَّهْتُمُونَا بِالْحُمُرِ وَالْكِلاَبِ، وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي، وَإِنِّي عَلَى السَّرِيرِ ـ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ ـ مُضْطَجِعَةً فَتَبْدُو لِي الْحَاجَةُ، فَأَكْرَهُ أَنْ أَجْلِسَ فَأُوذِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْسَلُّ مِنْ عِنْدِ رِجْلَيْهِ.
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, তার কাছে আলোচনা করা হলো, কুকুর, গাধা ও নারী নামায নষ্ট করে দেয়। তিনি বললেন, তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করলে? আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর নবী (সা.)-এর নামায আদায় অবস্থার তার ও কিবলার সামনে আড় হয়ে শুয়ে থাকতাম। আর আমার কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে আমি নীরবে তার পা দু'টির পাশ দিয়ে সরে পড়তাম। তাঁর কষ্ট হবে মনে করে আমি তার সামনে বসা অপছন্দ করতাম।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ذُكِرَ عِنْدَهَا مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ -এর সাথে। অর্থাৎ হাদীসের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে বুঝাচ্ছে যে, কোনো কিছুই সামনে আসা বা অতিক্রম করা দ্বারা নামায নষ্ট হয় না।
প্রশ্ন: মুসলিম শরীফ ইত্যাদির হাদীস রয়েছে- يقطع الصلوة المرأة و الحمار والكلب وبقي ذلك مثل موخرة الرحل
উত্তর: ইমাম নবভী (র.) লিখেছেন যে-
قال مالك و ابو حنيفة رضي الله عنهم والجمهور العلماء من السلف والخلف لا تبطل الصلوة بمرور هؤلاء ولا من غيرهم
জুমহূর ওলামা এ রেওয়ায়েতসমূহের তাবীল করেন। তা হলো- ১. যা قطع صلوة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ও নামাজের খুশু’ নষ্ট হওয়া। ২. নামায ভঙ্গ সম্পর্কিত হাদীসগুলি ইসলামের শুরু যুগের জন্য প্রযোজ্য, আর لا يقطع الصلوة شئ হলো পরবর্তী সময়ের। সুতরাং নামায ভঙ্গ সম্পর্কিত হাদীসগুলি মানসূখ হয়ে যাবে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে পূর্বে অনেকবার অতিবাহিত হয়েছে এবং এখানে ৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَمَّهُ عَنِ الصَّلاَةِ، يَقْطَعُهَا شَىْءٌ فَقَالَ لاَ يَقْطَعُهَا شَىْءٌ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ فَيُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ، وَإِنِّي لَمُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ عَلَى فِرَاشِ أَهْلِهِ.
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) রাতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন এবং আমি তাঁর বিছানায় তাঁর ও কিবলার মাঝখানে আড়া-আড়ি শুয়ে থাকতাম।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَقَالَ لاَ يَقْطَعُهَا شَىْءٌ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে পূর্বে অনেকবার অতিবাহিত হয়েছে এবং এখানে ৭৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জুমহূরের সমর্থন ও আনুকূল্য প্রকাশ করা, যারা বলেন যে, (অতিক্রমকারী) কোনো কিছুই নামায ভঙ্গকারী নয়। যা যাহেরীদের পরিপন্থি।
কোন মন্তব্য নেই