Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ রাতের বেলা (ইশার পর) মেহমান ও পরিবার-পরিজনের সাথে কথাবার্তা বলা

 باب السَّمَرِ مَعَ الضَّيْفِ وَالأَهْلِ

 
পরিচ্ছেদ: রাতের বেলা (ইশার পর) মেহমান ও পরিবার-পরিজনের সাথে কথাবার্তা বলা প্রসঙ্গে

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ أَصْحَابَ الصُّفَّةِ، كَانُوا أُنَاسًا فُقَرَاءَ، وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ اثْنَيْنِ فَلْيَذْهَبْ بِثَالِثٍ، وَإِنْ أَرْبَعٌ فَخَامِسٌ أَوْ سَادِسٌ ‏"‏‏.‏ وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ جَاءَ بِثَلاَثَةٍ فَانْطَلَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَشَرَةٍ، قَالَ فَهْوَ أَنَا وَأَبِي وَأُمِّي، فَلاَ أَدْرِي قَالَ وَامْرَأَتِي وَخَادِمٌ بَيْنَنَا وَبَيْنَ بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ‏.‏ وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ تَعَشَّى عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لَبِثَ حَيْثُ صُلِّيَتِ الْعِشَاءُ، ثُمَّ رَجَعَ فَلَبِثَ حَتَّى تَعَشَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ بَعْدَ مَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ وَمَا حَبَسَكَ عَنْ أَضْيَافِكَ ـ أَوْ قَالَتْ ضَيْفِكَ ـ قَالَ أَوَمَا عَشَّيْتِيهِمْ قَالَتْ أَبَوْا حَتَّى تَجِيءَ، قَدْ عُرِضُوا فَأَبَوْا‏.‏ قَالَ فَذَهَبْتُ أَنَا فَاخْتَبَأْتُ فَقَالَ يَا غُنْثَرُ، فَجَدَّعَ وَسَبَّ، وَقَالَ كُلُوا لاَ هَنِيئًا‏.‏ فَقَالَ وَاللَّهِ لاَ أَطْعَمُهُ أَبَدًا، وَايْمُ اللَّهِ مَا كُنَّا نَأْخُذُ مِنْ لُقْمَةٍ إِلاَّ رَبَا مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرُ مِنْهَا‏.‏ قَالَ يَعْنِي حَتَّى شَبِعُوا وَصَارَتْ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَتْ قَبْلَ ذَلِكَ، فَنَظَرَ إِلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ فَإِذَا هِيَ كَمَا هِيَ أَوْ أَكْثَرُ مِنْهَا‏.‏ فَقَالَ لاِمْرَأَتِهِ يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هَذَا قَالَتْ لاَ وَقُرَّةِ عَيْنِي لَهِيَ الآنَ أَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ ذَلِكَ بِثَلاَثِ مَرَّاتٍ‏.‏ فَأَكَلَ مِنْهَا أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ ـ يَعْنِي يَمِينَهُ ـ ثُمَّ أَكَلَ مِنْهَا لُقْمَةً، ثُمَّ حَمَلَهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَصْبَحَتْ عِنْدَهُ، وَكَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمٍ عَقْدٌ، فَمَضَى الأَجَلُ، فَفَرَّقَنَا اثْنَا عَشَرَ رَجُلاً، مَعَ كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ أُنَاسٌ، اللَّهُ أَعْلَمُ كَمْ مَعَ كُلِّ رَجُلٍ فَأَكَلُوا مِنْهَا أَجْمَعُونَ، أَوْ كَمَا قَالَ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) বলেছেন, আসহাবে সুফফাগণ ছিলেন দরিদ্র। এ কারণে আল্লাহর নবী (সা.) (সকলকে) বলে দিয়েছিলেন যে, যাদের কাছে দুইজন মানুষের খাদ্য রয়েছে, তারা আসহাবে সুফ্ফার মধ্য থেকে একজনকে নিয়ে গিয়ে (তাদের আহারে) তৃতীয় জনকে অন্তর্ভুক্ত করবে। চারজনের খাদ্য থাকলে (আসহাবে সুফফার একজন বা দুইজনকে নিয়ে গিয়ে তাদের আহারে) পঞ্চম বা ষষ্ঠ জনকে অন্তর্ভুক্ত করবে। (এক দিন) আবু বকর তিন জনকে এবং আল্লাহর নবী (সা.) দশ জনকে নিয়ে এলেন। আব্দুর রহমান বলেন, আমি আমার পিতা (আবু বরক) ও আমার মা ছিলাম (আমাদের পরিবারে)। (আবু উসমান বলেন,) জানি না তিনি এ কথাও বলেছিলেন কিনা যে, আমার স্ত্রী এবং খাদেমও ছিল, যে আমার ও আবু বকর উভয়ের গৃহে কাজ করতো। আবু বকর আল্লাহর নবী (সা.) এর ওখানেই রাতের খাবার গ্রহণ করে কিছু সময় সেখানে কাটালেন এবং সেখানেই ইশার নামাজ আদায় করেন। এর পরও তিনি এতক্ষণ দেরী করে ফিরলেন যে, ইতোমধ্যে আল্লাহর নবী (সা.) কিছুটা আরামও করে নিলেন। তারপরে আল্লাহর ইচ্ছামত রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি বাড়ী ফিরলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, তোমার মেহমানদের অথবা (বর্ণনকারীর সন্দেহ) তোমার মেহমানের থেকে কে তোমাকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল? (অর্থাৎ তাদের কথা ভুলে বসেছিলে)। আবু বকর বললেন, তুমি কি তাদেরকে (রাতের) খাবার দাওনি? তিনি বললেন, তুমি না আসা পর্যন্ত তারা খেতে অস্বীকার করেছে। খাদ্য তো তাদের সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল, কিন্তু তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আব্দুর রহমান বলেন, আমি (তখন ভয়ে) আত্মগাপন করলাম। আবু বকর রাগানি¦ত হয়ে হে গুনসার বলে সম্বোধন করলেন এবং ভাল-মন্দ অনেক কিছু বললেন। এরপর তাদেরকে (আহলে সুফফার লোকজনকে) বললেন, আপনারা কোনো দ্বিধা না করে খেয়ে নিন।
তারপর বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি কখনো খাবো না। (আব্দুর রহমান বলেন), আল্লাহর শপথ, আমরা যখনই কোনো লোকমা উঠিয়ে নিচ্ছিলাম সঙ্গে সঙ্গে তার নীচে ঐ পরিমাণের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আব্দুর রহমান বলেন, সকল মেহমানই তৃপ্তি সহকারে খেলেন কিন্তু খাদ্য পূর্বাপেক্ষাও বেশী অবশিষ্ট থাকলো। আবু বকর খাদ্যের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন তা পূর্বের মত বা তার চাইতে অধিক রয়ে গেছে। তাই তিনি (বিস্ময়ের সাথে) স্ত্রীকে বললেন, ওহে বনী ফিরাসের বোন! এ কি কান্ড দেখছি! তিনি বললেন, আমার চক্ষু শীতলকারীর শপথ, এগুলো নিঃসন্দেহে এখন পূর্বের চাইতে তিন গুণ অধিক। তখন আবু বকর ঐ খাদ্য থেকে খেলেন এবং বললেন, আমার পূর্বের ঐ কথা অর্থাৎ না খাওয়ার শপথ শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়েছে। এর পরে তিনি আরো এক গ্রাস মুখে নিলেন এবং অবশিষ্ট খাদ্য আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং সকালেই তিনি সেখানে পৌঁছলেন। আমাদের ও অন্য একটি গোত্রের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল এবং তার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আমরা বারো ব্যক্তিকে পৃথক করে দিলাম। এদের প্রত্যেকের সাথে আবার কিছু সংখ্যক লোক ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে কত জন করে লোক ছিল। যাই হোক, তাঁরা সবাই উক্ত খাদ্যগ্রহণ করলো
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে আবু বকর (রা.) তার স্ত্রীকে বলেছিলেনأَوَمَا عَشَّيْتِيهِمْ -এবং মেহমানদেরকে বলেছিলেন- كُلُوا لاَ هَنِيئًا কারণ, এ সবগুলিই বৈধ سمر-এর অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৪-৮৫, ৫০৬, ৯০৬-৯০৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: পূর্বের বাবে গেছে যে ইশার পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ হওয়া থেকে ইলমী আলোচনা ও ওয়াজ-নসীহত ইত্যাদি ব্যতিক্রম। এখন এ বাবে একথা বর্ণনা উদ্দেশ্য যে, ইশার নামাজের পর কল্যাণমূলক কথাবার্তা ও দীনী প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল ছাড়াও যদি সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কিত বিষয়ে পরিবারের লোকদের সাথে কথাবার্তা বলার প্রয়োজন হয় বা মেহমান এসে পড়ে এবং তাদের জন্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয় তখনও কথাবার্তা বলার অনুমতি রয়েছে। মূলতঃ ইশার নামাজের পর কথাবার্তা বলার যে নিষেধাজ্ঞা তা হলো অনর্থক ও কল্প-কাহিনী ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়ে যেন অযথা সময় নষ্ট করা না হয়। কিন্তু দীনী প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও দুনিয়াবী প্রয়োজনের জন্য কথাবার্তা বলা জায়েয আছে। মূল নিষেধাজ্ঞা ও মাকরুহ হওয়ার ভিত্তি হলো এর উপর যেন ফজর নামাজ ফওত হয়ে না যায়।  

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.