Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আযানঃ জামাআতে নামাজের ছওয়াব

باب فَضْلِ صَلاَةِ الْجَمَاعَةِ وَكَانَ الأَسْوَدُ إِذَا فَاتَتْهُ الْجَمَاعَةُ ذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ وَجَاءَ أَنَسٌ إِلَى مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ، فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى جَمَاعَةً

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ‏"‏‏.‏

পরিচ্ছেদ: জামাআতে নামাজের ছওয়াব

হযরত আসওয়াদ (র.) যখন (এক মসজিদে জামাত না পেতেন) তখন অন্য মসজিদে চলে যেতেন। (সেখানে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন) আর হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) এক মসজিদের এসে দেখলেন যে, সেখানের লোকেরা নামাজ পড়ে ফেলেছে। অতঃপর তিনি আজান দিলেন এবং ইকামত বলে জামাতে নামাজ পড়লেন।

ব্যাখ্যা: এর দ্বারা ইমাম বুখারী জামাতের ফযীলত বর্ণনা করছেন যে, আসওয়াদ বিন ইয়াযিদের যখন জামাত ছুটে যেত তখন তিনি তৎক্ষণাত একাকী নামায আদায় করতেননা; বরং জামাত তালাশ করতেন। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, জামাত ফযীলতপূর্ণ ও জরুরী জিনিস।

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, একাকী নামাজ আদায় করার চাইতে জামাআতে নামাজ আদায়ের ফযীলত সাতাশ গুণ অধিক।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً -এর সাথে স্পষ্ট।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৯, ৯০, ২৩১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু সাঈদ (রা.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, একাকী নামাজ আদায়ের চাইতে জামা'আতে নামাজ আদায় করার ফযীলত সাতাশ গুণ বেশী।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ، فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ‏.‏ وَلاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ঘরে এবং বাজারে নামাজ আদায় করার চাইতে জামাআতের নামাজে পঁচিশ গুণ ছওয়াব বেশী। কোনো এক লোক যখন ভালোভাবে অযু করে মসজিদের দিকে বের হয় এবং একমাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই সে মসজিদে যায়, তখন তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপের জন্য তার একটি পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং মাফ করে দেয়া হয় তার একটি গুনাহ। নামাজ আদায় করে সে যতক্ষণ মুসাল্লায় অবস্থান করে ফিরিশতাগণ তার জন্য ততক্ষণ এ বলে দোয়া করে, হে আল্লাহ! তাকে তোমার রহমত দান করো, তার প্রতি অনুগ্রহ করো। আর তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় থাকে, সে ততক্ষণ নামাজের মধ্যে আছে বলে গণ্য হয়।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৩, ৬৯, ৮৯-৯০, ৯০, ২৮৪-২৮৫, ৪৫৮  পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা: মসজিদের দ্বিতীয় জামাতের বিধান: وَجَاءَ أَنَسٌ إِلَى مَسْجِدٍ-এর ভিত্তিতে কতক ওলামা (ইমাম আহমদ ইসহাক (র.) মসজিদে দ্বিতীয় জামাত জায়েযের উপর দলিল দিয়ে থাকেন।

ইমাম তিরমিযী বলেন:

 قـالـوا لابـاس ان يصلـى الـقـوم جـمـاعـة فـى مسـجـد قـد صلـى فـيـه وبـه يقـول احـمـد واسـحـق وقـال اخـرون مـن اهـل الـعـلـم يصلـون فـرادى وبـه يقـول سـفـيـان وابـن الـمـبـارك ومـالك والـشافـعـى يخـتـارون الـصلـوة فـرادى

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, ইমামগণের মধ্য হতে কেবলমাত্র ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (র.) জায়েয হওয়া প্রবক্তা। কিন্তু ইমামত্রয় ও জুমহূর মহল্লাহর মসজিদে (অর্থাৎ যে মসজিদে ইমাম-মুয়াযযিন নিযুক্ত আছে এবং নামাজীও জানা) মহল্লাবাসী জামাতে নামাজ পড়ার পরে দ্বিতীয় জামাত মাকরূহ তাহরীমী।

কিন্তু রাস্তার পাশে অবস্থিত মসজিদ যেখানে ইমাম-মুয়াযযিন নিযুক্ত নেই, এবং নামাজীও নির্দিষ্ট নয়, এবং মহল্লাহর মসজিদে অ-মহল্লার লোকেরা জামাত করে ফেলেছে তাহলে এ দুই সূরতেই সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয় জামাত করা জায়েয বরং উত্তম।

তৃতীয় কওল হলো ইমাম আবু ইউসুফ (র.)-এর, তিনি বলেন মসজিদের এক কোণে অর্থাৎ ইমামের স্থান পরিবর্তন করে ডাকাডাকি না করে দ্বিতীয় জামাত করা জায়েয আছে।

জায়েয প্রবক্তাদের দলীল: জায়েয প্রবক্তা তথা হাম্বলীদের দলীল হলো-

১.    শিরোনামে বর্ণিত হযরত আনাস (রা.)-এর আমল।

জবাব: এর জবাব হলো এখানে অনেকগুলি সম্ভাবনার রয়েছে। ১. সেটি ‘মসজিদে তরীক’ ছিল তথা রাস্তার পাশের মসজিদ ছিল। যেখানে ইমাম ইত্যাদি নির্দিষ্ট ছিল না। ২. হযরত আনাস যে মসজিদে গিয়েছিলেন সেখানে প্রথম জামাত মহল্লাবাসী করেনি; বরং বাইরের লোকেরা করেছিল। সুতরাং মূলনীীত হলো اذا جاء الاحتمال بطل الاستدلال ৩. হযরত আসওয়াদ নিজের মহল্লার মসজিদ ছেড়ে অন্য মসজিদে গিয়েছিলেন। যদি দ্বিতীয় জামাত জায়েয হতো তাহলে তিনি অন্য মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন কি ছিল?

২.    তাদের দ্বিতীয় দলীল হলো আবু সাঈদ খুদরীর রেওয়ায়েত এক ব্যক্তি মসজিদের এমন সময় এলেন যখন জামাত হয়ে গেছে, এবং সে একাকী নামাজ পড়তে লাগল। তখন নবী করীম (সা.)  তোমাদের মাঝে কে আছে, যে তার সাথে নামাজ পড়ে পুণ্য অর্জন করবে? فـقـام رجـل এক ব্যক্তি অর্থাৎ হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা.) উঠে দাঁড়াল। এটি দ্বিতীয় জামাত ছিল। একে দলিল বানিয়ে হাম্বলী ও আহলে যাহেরগণ দ্বিতীয় জামাত জায়েজ হওয়ার প্রবক্তা।

জবাব: এ হাদীসের জবাবে জুমহুরের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি জামাতই ছিল না; কারণ এতে হযরত আবূ বকর (রা.) ছিলেন নফল আদায়কারী আর অপর ব্যক্তি হলো ফরয আদায়কারী। অথবা বলা যায় যে, তারা মসজিদের এক কোণো আদায় করেছেন।

জুমহূরের দলীল: হানাফী ও জুমহূরের প্রথম দলিল হলো:

হযরত আবূ বাকরা (রা.)-এর  রেওয়ায়েত:

অর্থাৎ,রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনার কোনো এক প্রান্ত হতে এসে নামাজ পড়তে চাইলেন, কিন্তু ততক্ষণে লোকজন জামাতসহ নামাজ আদায় করে নিয়েছে। তাই তিনি তার গৃহে চলে গেলেন। এবং পরিজনকে একত্র করে তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়লেন। আল্লামা হায়ছামী (র.) মাজমাউয যাওয়ায়েদ এ রেওয়ায়েতটি উদ্ধৃত করার পর লেখেন  رجـالـه ثقـات-এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। বলা বাহুল্য, যদি দ্বিতীয় মাকরূহ না হতো তাহলে নবী করীম (সা.) কখনো মসজিদে নববীর মহান ফজিলত হাতছাড়া ঘরের জামাতকে প্রাধান্য দিতেন না।  অতএব, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ঘরে গিয়ে নামাজ আদায় করাটাই দ্বিতীয় জামাত মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল।

১.    কেউ কেউ হযরত আবূ হুরায়রা (রা.)-এর একটি রেওয়ায়েত দ্বারাও দলিল পেশ করেন, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে: যে, হুযুর (সা.) জামাত তরককারীদেও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, প্রথম জামাতে হাজির হওয়াই জরুরি। যদি দ্বিতীয় জামার জায়েজ হতো, তাহলে তাদের এ ওজর পেশ করার সুযোগ ছিল যে, আমরা দ্বিতীয় জামাতে হাজির হবো।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন হযরত গাংগুহী (র.)-এর রেসালা: القطوف الدانية في كراهية الجماعة الثانيه


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.