Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতবুল আজানঃ দুই হাত কোন পর্যন্ত উঠাবে?

 باب إِلَى أَيْنَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فِي أَصْحَابِهِ رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم افْتَتَحَ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاَةِ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ يُكَبِّرُ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَهُ، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَعَلَ مِثْلَهُ وَقَالَ ‏ "‏ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‏"‏‏.‏ وَلاَ يَفْعَلُ ذَلِكَ حِينَ يَسْجُدُ وَلاَ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ‏.‏

পরিচ্ছেদ: দুই হাত কোন পর্যন্ত উঠাবে? আবু হুমাইদ তার সাথীদের মধ্য হতে কাউকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সা.) কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন।

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, আমি আল্লাহর নবী (সা.)-কে নামাজ শুরু করার সময় তাকবীর (তাকবীরে তাহরীমা) বলে শুরু করতে দেখেছি। তাকবীর বলার সয় তিনি দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়েছেন। আবার যখন রুক‚র তাকবীর বলেছেন, তখনও অনুরূপ করেছেন (দুই হাত উঠিয়েছেন) এবং পরে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে তিনি তা শুনে থাকেন) বলেও অনুরূপ করেছেন এবং রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ (হে আমাদের প্রভু সকল প্রশংসার উপযোগী একমাত্র তুমিই) বলেছেন। কিন্তু সিজদা করার সময় বা সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় তিনি এমন করতেন না।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১০২, ১০২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী এখানে তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি; বরং তিনি প্রশ্ন রেখেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কারণ, এ সম্পর্কে নবী করীম (সা.) হতে রেওয়ায়েত বিভিন্ন। ১. الي المنكبين [কাঁধ পর্যন্ত] ২. حذاء الاذنين [দুই কান বরারবর] ৩. الي فروع الاذنين[কানের উপরিঅংশ পর্যন্ত]

রেওয়ায়েতসমূহের এ বিভিন্নতার কারণে ইমাগণেরও মতামত বিভিন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু ইমাম বুখারী বাবের অধীনে যে হাদীস উলে­খ করেছেন তার দ্বারা ইমাম বুকারীর মনোভাব উত্তমরূপেই বুঝা যায় যে, তার মত হলো উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে হবে।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ : তাকবীর বলার সময় হাত কোন পর্যন্ত উঠাতে হবে সে সম্পর্কে ইমামগণের মাযহাব নিম্নরূপ:

১.    ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাতে হবে, অর্থাৎ হাত এমনভাবে উঠাবে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

২.    ইমামত্রয়ের প্রসিদ্ধ মাযহাব হলো হস্তদ্বয় কাঁধ বরাবর উঠাতে হবে।

শাফেয়ীদের দলীল হলো বাবের হাদীসের শব্দ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ

হানাফীদের দলীল: আহনাফের দলীল হলো হযরত মালিক বিন হুয়াইরিছ হতে বর্ণিত হাদীস:ان رسول الله (ص) كان اذا كبر رفع يديه حتي يحاذي بهما اذنيه (مسل اول)

এরকমই ত্বহাভী শরীফে হযরত বারা ইবনে আযেব (রা.) সূত্রে এবং দারা কুতনীতে হযরত আনাস (রা.)-এর হাদীস বর্ণিত আছে।

কিন্তু ইমাম নবভী (র.) তো মাসআলাই পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন:

فالمشهور من مذهبنا ومذهب الجمهور انه يرفع يديه حذو منكبيه بيحث يحاذي اطراف اصابعه فروع اذنين الخ

উভয় হাত উভয় কাঁধ বরাবর এমনভাবে উঠাবে যে, আঙ্গুলের উপরিঅংশ কানের উপর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি পর্যন্ত। এটিই হলো হানাফীদের মাযহাব। এ সূরতে তিন ধরনের হাদীসের মাঝে সমন্বয় সাধনও হয়ে যায়, এবং ইমামগণের মাযহাবসমূহের বিরোধও নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

পুরুষ ও মহিলার মাঝে পার্থক্য:

হাত উঠানোর ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মাঝে পার্থক্য আছে কি না?

হানাফীরা বলেন পার্থক্য আছে। পুুরুষরা তো দুই কান পর্যন্ত উঠাবে, আর মহিলারা পুরুষদের তুলনায় আরো কম উঠাবে। কেননা, এতেই তাদের জন্য পর্দা রক্ষা হবে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.