পরিচ্ছেদ: দুই রাকাত পড়ে (প্রথম বৈঠকশেষে) ওঠার সময় হাত ওঠানো প্রসঙ্গে
অনুবাদ: হযরত নাফে (রা.) বলেন, ইবনে ওমর যখন নামাজ শুরু করতেন, তখন তাকবীর বলে দুইহাত উঠাতেন। যখন রুক‚ করতেন দুইহাত উঠাতেন। যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে তিনি তা শুনে থাকেন) বলতেন তখন দুইহাত উঠাতেন। আর যখন দুই রাকাআত শেষ করে উঠতেন, তখনও দুইহাত উঠাতেন। ইবনে ওমর এ কথাগুলো আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন অর্থাৎ তিনি এ কথাগুলো বলেছেন বলে উলেখ করেছেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য একেবারেই স্পষ্ট। তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম দুই রাকাত পূর্ণ করে তাশাহহুদের পর উঠার সময়ও রফয়ে ইয়াদাইন করা চাই। এটা শুধুমাত্র ইমাম বুখারীর মাযহাব। তবে পরবর্তীতে কিছু শাফেয়ী ও হাম্বলী এ মতের প্রবক্তা হয়ে যান। অথচ ইমাম শাফেয়ীর জগদ্বিখ্যাত ও সাড়া জাগানো কিতাব كتاب الأم-এর মধ্যে এর স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে যে, রফয়ে ইয়াদাইন কেবলমাত্র তিন স্থানে করতে হবে। ১. তাকবীরে তাহরীমার সময়, ২. রুকুতে যাওয়ার সময়, ৩. রুকু হতে উঠার সময়।
এ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, ইমাম শাফেয়ীও রুকু হতে ওঠার সময় রফয়ে ইয়াদাইনের প্রবক্তা নন।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
মূলতঃ এ হুকুমটিও ইসলামের প্রথম যুগের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন বিভিন্ন রেওয়ায়েতে আছে في كل خفض و رفع প্রতি ওঠা-বসার সময় এমনকি সিজদার যাওয়া-আসার সময়ও এ হুকুম ছিল। পরবর্তীতে তা মানসূখ হয়ে গেছে। তেমনিভাবে প্রথম বৈঠক হতে ওঠার সময়ও রফয়ে ইয়াদাইন মানসূখ হয়ে গেছে।
কোন মন্তব্য নেই