Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ আমার নামাজ ফওত হয়েছে বলতে পারবে

باب قَوْلِ الرَّجُلِ فَاتَتْنَا الصَّلاَةُ وَكَرِهَ ابْنُ سِيرِينَ أَنْ يَقُولَ فَاتَتْنَا الصَّلاَةُ وَلَكِنْ لِيَقُلْ لَمْ نُدْرِكْ. وَقَوْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَحُّ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ سَمِعَ جَلَبَةَ رِجَالٍ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكُمْ ‏"‏‏.‏ قَالُوا اسْتَعْجَلْنَا إِلَى الصَّلاَةِ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَلاَ تَفْعَلُوا، إِذَا أَتَيْتُمُ الصَّلاَةَ فَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ، فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا ‏"‏‏.‏
পরিচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি فاتتنا الصلوة [আমার নামাজ ফওত হয়েছে] বলতে পারবে।
ইবনে সিরীন (র.) এরকম বলাকে মাকরূহ মনে করেন- তবে لم ندرك বলতে পারবে। কিন্তু নবী করীম (সা.)-এর কওল অধিক সহীহ।
অনুবাদ: হযরত আবু কাতাদাহ (রা.) বলেছেন) একদিন আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায়
করছিলাম। হঠাৎ তিনি লোকজনের কোলাহল শুনতে পেলেন। নামাজ শেষ করে তিনি বললেন, তোমাদের কি হয়েছিলো? তারা বললো, আমরা নামাজের জন্য তাড়াহুড়া করেছিলাম। তিনি বললেন, এমন করো না। যখন নামাজের জন্য আসবে ধীরস্থির ভাবে আসবে। (নামাজের) যতটা পাবে তা আদায় করবে এবং যতটা ছুটে যাবে তা (পরে) পূর্ণ করে নিবে।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا-এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৮, ২২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য:
ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ইবনে সিরীনের মত খণ্ডন করা। ইবনে সিরীন (র.) নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের তাবেয়ী। কিন্তু নবী করীম (সা.)-এর বাণী নিঃসন্দেহে অগ্রগামী হবে। তাবেয়ী হোন বা সাহাবী, হাদীসের মোকাবেলায় কারো কথার কোনো মূল্য নেই। তাই ইমাম বুখারী ইবনে সিরীনের মত খণ্ডন করতে চাচ্ছেন। তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, যখন নবী করীম (সা.) হতে وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا [যে নামাজ তোমাদের ছুটে গেছে তা তোমরা পূর্ণ করে নাও] বর্ণিত আছে তাহলে এরকম শব্দ ব্যবহার করাতে কোনো সমস্যা নেই।
আল্লামা আইনী (র.) বলেন:
 هذا الكلام من البخاري ردّ علي ابن سيرين لان الشارع جوز لفظ الفوات وابن سيرين كرهه
ব্যাখ্যা: ইমাম বুখারী এতক্ষণ পর্যন্ত আযানের পরিচ্ছেদসমূহ উলে­খ করেছেন। এখন জামাতের পরিচ্ছেদসমূহ শুরু করছেন। কারণ আযান শোনার পর কয়েকটি সূরত হতে পারে।
১.    পূর্ণ নামায পেয়ে যাবে।
২.    কিছুই পাবে না।
৩.    কিছু পাবে, আর কিছু পাবে না।
তাই ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন যে, যদি কেউ পূর্ণ নামায ছুটে যায়, জামাতে মোটেই অংশগ্রহণ করতে পারেনি তাহলে তাকে فاتتنا الصلوة বলা যাবে কি না? ইবনে সীরীন বলেন এটা মাকরূহ হবে। ইমাম বুখারী তার মত খণ্ডন করছেন। যেহেতু হুযুর (সা.) থেকে বলার প্রমাণ আছে তাই বলা যাবে। উপরিউক্ত বক্তব্য দ্বারা বুঝা গেল যে, أَصَحُّ এটি যদিও ইসমে তাফযীলের সীগাহ; কিন্তু এখানে ইসমে তাফযীল উদ্দেশ্য নয়। বরং أصح দ্বারা উদ্দেশ্য হলো صحيح কারণ, কখনও ইসমে তাফযীল ব্যবহার করা হয়; কিন্তু তার দ্বারা উদ্দেশ্য হয় توضيح ; যদি ইসমে তাফযীল উদ্দেশ্য হয় তাহলে ইবনে সিরীনের কওলও সহীহ সাব্যস্ত হয়। অথচ তা নয়। : ওমদাতুল কারী

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.