Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ মুয়াযযিন আজানের সময় মুখ ডানে-বামে ঘুরাতে পারবে কিনা?

باب هَلْ يَتَتَبَّعُ الْمُؤَذِّنُ فَاهُ هَا هُنَا وَهَا هُنَا، وَهَلْ يَلْتَفِتُ فِي الأَذَانِ وَيُذْكَرُ عَنْ بِلاَلٍ أَنَّهُ جَعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ. وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لاَ يَجْعَلُ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ. وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤَذِّنَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ. وَقَالَ عَطَاءٌ الْوُضُوءُ حَقٌّ وَسُنَّةٌ. وَقَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى بِلاَلاً يُؤَذِّنُ فَجَعَلْتُ أَتَتَبَّعُ فَاهُ هَا هُنَا وَهَا هُنَا بِالأَذَانِ‏.‏


পরিচ্ছেদ: মুয়াযযিন আজানের সময় মুখ ডানে-বামে ঘুরাতে পারবে কিনা? এবং এদিক-সেদিক দৃষ্টি ফিরাতে পারবে কিনা?

হযরত বিলাল (রা.) হতে বর্ণিত আছে তিনি তার দুই হাতের আঙ্গুল দুই কানের মধ্যে ঢুকাতেন। তবে ইবনে ওমর (রা.) আঙ্গুল কানে ঢুকাতেন না। ইবরাহীম নাখয়ী বলেন, অজুবিহীন আজান দিলে কোনো সমস্যা নেই। হযরত আতা বিন আবী রাবাহ (র.) বলেন, (আজানের জন্য) অজু করা সুন্নত এবং প্রমাণিত। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) সবসময় আল্লাহর যিকির করতেন।

অনুবাদ: হযরত আবু জুহাইফা (রা.) বর্ণনা করছেন, আজান দেয়ার সময় আমি বিলালকে এদিক ওদিক মুখ ফিরাতে দেখেছি।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَجَعَلْتُ أَتَتَبَّعُ فَاهُ هَا هُنَا وَهَا هُنَا بِالأَذَانِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে  ৮৮, ৮৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, নামাজের আহকাম ও আজানের আহকামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণতঃ কিবলামুখী ইত্যাদির শর্ত আজানের মধ্যে নেই। তেমনিভাবে উলি­খিত আছারসমূহের সামঞ্জস্য শিরোনামের সাথে প্রমাণ হয়ে যায়।: শরহে তারাজিম

শিরোরামের উদ্দেশ্য হলো মুয়াযযিন حي علي الصلوة و حي علي الفلاح বলার সময় ডান-বামে চেহারা ফিরাতে পারবে কিনা? জুমহূরের নিকট ফিরাতে হবে।

শায়খুল হাদীস যাকারিয়া (র.) বলেন, আমার মতে এখানে আজানের অধ্যায় সমাপ্ত হতে চলেছে। এবং সামনের বাবসমূহে জামাতের আলোচনা শুরু হবে। আর মুসান্নিফগণের নিয়ম হলো তারা কিতাবের শেষে বিবিধ মাসআলার উপর একটি বাব কায়েম করে থাকেন। তেমনিভাবে ইমাম বুখারীও এ বাবটি বিবিধ মাসআলার উপর কায়েম করেছেন। এবং উলি­খিত আছরসমূহ দ্বারা মুসান্নিফের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মুখ ঘুরানো প্রমাণ করা নয়; বরং অনেক মাসআলা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।

يَتَتَبَّعُ : আল্লামা আইনী ও হাফিজ ইবনে হাজার (র.) বলেন اُصَيلي-র কপিতে শব্দ হলোيُتْبِعُ  বাবে افعال হতে মুযারি’র সীগাহ। অন্যান্য কপিতে আছে يَتَتَبَّعُ বাবে تفعل হতে, মুযারি’র সীগাহ।

الْمُؤَذِّنُ : একে يتتبع-এর ফায়েল সাব্যস্ত করে মারফূ’ পড়া হবে। আর فاه হলো তার মাফউল। তখন উদ্দেশ্য হবে মুয়াযযিন حي علي الصلوة و حي علي الفلاح  বলার সময় মুখ ডান-বামে ঘুরাবে কিনা?

আর যদিالْمُؤَذِّنَ -কে মাফউল সাব্যস্ত করে মানসূব পড়া হয়, তখন অর্থ হবে মুয়াযযিনের আজান শুনে কোনো ব্যক্তি মুয়াযযিনের ন্যায় মুখ ডান-বামে ঘুরাবে কিনা? 

কেউ কেউ এ উদ্দেশ্যকেই সঠিক বলেছেন। যেমন আবু জুহাইফা বলেন, আমিও আমার চেহারা ডান-বামে ঘুরাতাম; আবার হাদীসে আছে আজান শ্রবণকারী মুয়াযযিনের অনুসরণ করবে।

প্রথম উদ্দেশ্য অনুযায়ী হাদীসের সামঞ্জস্য হবে এভাবে যে, শিরোনামে মুয়াযযিনের আলোচনা আছে, আর রেওয়ায়েতে আছে শ্রবণকারী চেহারা ঘুরানোর কথা। আর এটা স্পষ্ট যে, শ্রবণকারী তখনই মুখ ঘুরাবে যখন মুয়াযযিন ঘুরাবে।

মুয়াযযিন আজানে حي علي الصلوة و حي علي الفلاح বলার সময় ডান-বামে মুখ ঘুরানো মুস্তাহাব। শুধুমাত্র ইবনে সিরীন (র.) মাকরূহ বলেন। তিনি বলেন, আজান হলো নামাজের ভূমিকাস্বরূপ, আর নামাজের মধ্যে কিবলামুখী হওয়ার জরুরী তাই আজানের মধ্যেও হবে।

وَهَلْ يَلْتَفِتُ فِي الأَذَانِ : এটা মূলতঃ প্রথম বাক্যের বিশ্লেষণমূলক। যা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, حيعلتين-এর সময় ডান-বামে মুখ ফিরানো চাই। আর শুধুমাত্র চেহারা ডান-বামে ফিরাবে, সিনা যেন না ঘুরে।

وَيُذْكَرُ عَنْ بِلاَلٍ : আজানের সময় কানে আঙুল প্রবেশ করানোর নির্দেশ স্বয়ং নবী করীম (সা.) হযরত বিলাল (রা.)-কে দিয়েছেন। তার কারণ হলো এর দ্বারা আওয়াজ উঁচু হয়। তাই ইমাম চতুষ্টয়ের নিকট এটা মুস্তাহাব।

وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ : ইবনে ওমর (রা.) কানে আঙুল দিতেন না। এর কয়েকটি কারণ হতে পারে। ১. সম্ভবতঃ ইবনে ওমর (রা.)-এর আওয়াজ এমনিতেই উঁচু ছিল। আর যেহেতু বিষয়টি ফরজ ওয়াজিব নয়। তাই তিনি এরকম করতেন না। ২. অথবা তার উদ্দেশ্য ছিল মাসআলা বর্ণনা করা। ৩. অথবা এ হাদীসটি তাঁর জানা ছিল না।

وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ : ইবরাহীম নখয়ী (র.) বলেন, অজুবিহীন আজান দিলে কোনো সমস্যা নেই। উলে­খ্য যে, لا بأس শব্দটি সেখানেই ব্যবহৃত হয় যেখানে কোনো بأس বা সমস্যাও আছে। সুতরাং এভাবে আজান তো হয়ে যাবে; কিন্তু মাকরূহ হতে খালি নয়। তাই অজুবিহীন আজান না দেওয়া চাই। ইমাম তিরমিযী স্বতন্ত্র্য বাব কায়েম করে হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন: قال النبي (ص) لا يؤذن الا متوضئ

ডশরোনামের সাথে সামঞ্জস্য সম্পর্কে বর্ণনা অতিবাহিত হয়েছে যে, এ আছারগুলি বিবিধ মাসআলা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ২. শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যও হতে পারে। তা এভাবে যে, অযুর দ্বারা প্রফুল­তা অর্জিত হয়। আর প্রফুল­তার পর যে কাজ করা হবে তাতে শক্তি অর্জিত হয়। সুতরাং যেভাবে কানে আঙুল প্রবেশ করানো আওয়াজ উঁচু করার কারণ হয়, তেমনিভাবে অযু করাও আওয়াজ উঁচু করার ক্ষেত্রে প্রফুল­তা সৃষ্টির কারণে সহায়ক হয়ে থাকে।

ইমাম বুখার বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য হযরত আতা বিন আবী রাবাহ এর উক্তি বর্ণনা করেছেন যে,  আযানের জন্য অযু করা শরিয়তে প্রমাণিত বিষয় ও সুন্নত।

قالت عائشة : এটি উলে­খ করার দ্বারা বুঝা যায় যে, ইমাম বুখারীর মনোভাব যে, তিনি ইবরাহীম নখয়ীর সাথে আছেন যে, বিনা অযুতে আযান দেয়া মাকরূহ ছাড়া জায়েয আছে। কিন্তু হানাফী ও শাফেয়ীগণের মতে মাকরূহ।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.