Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ তীব্র গরমের সময় যোহর নামাজ ঠাণ্ডা সময়ে পড়া

 باب الإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ

 
পরিচ্ছেদ: তীব্র গরমের সময় যোহর নামাজ ঠাণ্ডা সময়ে পড়া

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ حَدَّثَنَا الأَعْرَجُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَغَيْرُهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ‏.‏وَنَافِعٌ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏‏.‏
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) উভয়েই আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, যখন গরম অত্যাধিক বৃদ্ধি পায় (তখন নামাজ আদায় না করে বরং) দেরী করে পরিবেশ একটু ঠান্ডা হলে নামাজ আদায় করো। কারণ জাহান্নামের আগুনের তেজস্ক্রিয়তার জন্য গরমের- প্রচন্ডতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। (অথবা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের আগুনের অংশ বিশেষ।)
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ -এর সাথে। কারণ নামায দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যোহরের নামায।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৬, ৭৭, ৪৬২  পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا محمد ابْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمُهَاجِرِ أَبِي الْحَسَنِ، سَمِعَ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ أَذَّنَ مُؤَذِّنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ فَقَالَ ‏"‏ أَبْرِدْ أَبْرِدْ ـ أَوْ قَالَ ـ انْتَظِرِ انْتَظِرْ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ شِدَّةُ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ ‏"‏‏.‏ حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আবুযার (রা.) বলেন, (গরমের দিনে) আল্লাহর নবী (সা.)-এর মুয়াযযীন যুহরের নামাজের আযান দেয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বললেন, ওহে (পরিবেশ) ঠান্ডা হতে দাও, ঠান্ডা হতে দাও। অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বলেছেন, অপেক্ষা করা, অপেক্ষা করো। তিনি আরো বলেছেন, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের আগুনের তেজস্ক্রিয়তা থেকে সৃষ্টি হয়। সুতরাং গরমের প্রচন্ডতা বৃদ্ধি পেলে ঠান্ডায় (যুহরের) নামাজ পড়া। এমনকি আমরা পাহাড়ের টিলায় ছায়া দেখতাম (তারপর যুহরের নামাজ আদায় করতাম)।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে৭৬-৭৭, ৭৭, ৮৭-৮৮, ৪৬১-৪৬২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏‏.‏ ‏"‏ وَاشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا‏.‏ فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ، وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ، فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ، وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ ‏"‏‏.‏
 
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) আল্লাহর নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, গরমের প্রচন্ডতা বৃদ্ধি পেলে (যুহরের) নামাজ বিলম্ব করে ঠান্ডায় আদায় করো। কারণ, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের তেজস্ক্রিয়তার জন্য বৃদ্ধি পায়। জাহান্নামের আগুন তার প্রভুর কাছে অভিযোগ করে বললো, হে আমার প্রভু! আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। সুতরাং তিনি (আল্লাহ) জাহান্নামকে একবার শীতে ও একবার গ্রীষ্মে মোট দু'বার শ্বাস ফেলার অনুমতি প্রদান করলেন। আর তাই হচ্ছে প্রচন্ডতম গরম, যা তোমরা গ্রীষ্মকালে অনুভব করে থাকো এবং প্রচন্ডতম শীত যা শীতকালে অনুভব করে থাকো।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ‏ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ، -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৬, ৭৭, ৪৬২  পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏‏.‏ تَابَعَهُ سُفْيَانُ وَيَحْيَى وَأَبُو عَوَانَةَ عَنِ الأَعْمَشِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন। যুহরের নামাজ দেরী করে ঠান্ডায় আদায় করো। কারণ, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের (আগুনের) অংশ বিশেষ।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য  "‏ أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৭, ৪৬২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ঐ সমস্ত লোকদের মতবাদ খণ্ডন করা যারা সর্বাবস্থায় যোহর নামাজকে আউয়াল ওয়াক্তে পড়া মুস্তাহাব এবং ঠাণ্ডা সময়ে পড়াকে মাকরূহ মনে করেন।
এবং ঐ সমস্ত লোকদের মতও খণ্ডন করা উদ্দেশ্য যারা ঠাণ্ডায় পড়ার জন্য শর্তারোপ করেন, যেমন- ১. যার বাড়ি মসজিদ হতে দূরে এবং রাস্তা ছায়াদার নয়। ২. এলাকা গরম হওয়া। যেমনটি ইমাম শাফেয়ী বলেন। ইমাম বুখারী তাদের মতকে খণ্ডন করছেন যে, একাকী হোক বা জামাত, দূর হোক বা কাছে, এ সবের কোনো শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ঠাণ্ডা করার কারণ একমাত্র গরমের তীব্রতা। তাইতো ইমাম বুখারী শিরোনাম শর্তহীন রেখে এটা বলে দিলেন যে, যখন তীব্র গরম হবে তখনই ابراد করা উত্তম। তা যেখানেই হোক-যখনই হোক, একাকী নামাজ হোক বা জামাতের নামাজ হোক। সর্বাবস্থায় তীব্র গরমের সময় ঠাণ্ডা করে পড়া মুস্তাহাব।
সুতরাং এখানে ইমাম বুখারী জুমহূর বিশেষতঃ আহনাফদের সমর্থন ও আনুকূল্য প্রকাশ করছেন।
ব্যাখ্যা:
ইমাম বুখারী নামাজের ফযীলত বর্ণনার পর নামাজের সময় সম্পর্কে আলোচনা শরু করেছেন। এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পৃথক পৃথক সময় বিস্তরিতভাবে বর্ণনা শুরু করেছেন। এবং সর্বপ্রথম জোহরের নামাজের আলোচনা করেছেন। কারণ, امامت جبرئيل-এর হাদীস জানা গেছে যে, তিনি নবী করীম (সা.)-কে সর্বপ্রথম জোহরের নামাজ পড়িয়েছেন।
প্রশ্ন: নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে জোহর নামাজের বর্ণনা করতেন, তারপর ابراد بالظهر [জোহর নামাজকে ঠাণ্ডা করা]-র কথা বলতেন। কেননা, ابراد بالظهر হলো أوصاف [গুণাগুন] আর মূলনীতি হলো اوصاف- তার মওসূফ-এর অনুগামী হয়ে থাকে।
জবাব: এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন-
১.    আল্লামা আইনী (র.) বলেন-انما قدم ابراد بالظهر علي باب وقت الظهر للاهتمام به অর্থাৎ জোহর নামাজকে ঠাণ্ডা সময়ে পড়ার গুরুত্ব বুঝানোর জন্য তিনি একে আগে এনেছেন।
২.    শায়খুল হাদীস যাকারিয়া (র.) বলেন, এর কারণ হলো পূর্বের বাবে ইমাম বুখারী মুনাজাতের বাব গঠন করেছিলেন। অর্থাৎ নামাজের মধ্যে আল্লাহর সাথে অন্তরঙ্গ কথাবার্তা হয়, নামাজ হলো মুমিনের মে’রাজস্বরূপ। সুতরাং এ বাব হলো পূর্বের বাবের পরিসমাপ্তিস্বরূপ। অর্থাৎ যখন নামাজ হলো আল্লাহর সাথে মুনাজাত ও কথোপকথন, সুতরাং তা ঠাণ্ডার সময় হওয়া চাই, কারণ তা হলো প্রশান্তির সময়-যা গরমের তীব্রতার সময় হওয়া বাঞ্চনীয় নয়। কারণ, তখন মনের প্রশান্তি থাকে না।
তাছাড়া গরমের তীব্রতা হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। তাই ঐ সময় বিলম্ব করে ঠাণ্ডা ও প্রশান্তির সময় পড়া মুস্তাহাব। এটিই হলো হানাফীদের কওল।
ব্যাখ্যা: তৃতীয় হাদীস অর্থাৎ হাদীস নং ৫১৭
وَاشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا : অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মত হলো এ অভিযোগটি ছিল মৌখিক।
আল্লামা আইনী বলেন- কাজী ইয়ায, কুরতুবী, নবভী প্রমুখ ওলামায়ে কেরামের মত যে, এ অভিযোগ হবে প্রকৃত বা মৌখিক।  তারা বলেন নিঃসন্দেহে আল্লাহ যে কোনো কিছুকে কথা বলার ক্ষমতা প্রদানে সক্ষম। যেমন পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হুদহুদের ঘটনা এর উজ্জ্বল প্রমাণ। বিস্তারিত দেখুন উমদাতুল কারীতে।
কারো কারো মত হলো জাহান্নামের এ অভিযোগ হলো রূপকার্থ তার উত্তেজনার জন্য, এবং একাংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলাটিও রূপক। এবং জাহান্নাম শাঁস নেওয়াটিও রূপক।
প্রশ্ন: জাহান্নাম অভিযোগ কেন করল?
উত্তর: এর মূল কারণ তো আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন। তবে তা এ জন্য বলে দেওয়া হয়েছে যেন জাহান্নামের ভয়াবহতা বুঝা যায়। এবং বান্দা এর ভয়ে আমলে লিপ্ত হয়।

نفس في الشتاء و نفس في السيف : জাহান্নামের দুটি স্তরের অর্থ হলো  জাহান্নামের মধ্যে দুটি স্তর আছে। এক. طبقه نار [আগুনের স্তর] দুই. طبقه زمهرير [ঠাণ্ডার স্তর]  সুতরাং জাহান্নাম তার আগুনের স্তরের শ্বাস দ্বারা গরম নিক্ষেপ করে, আর ঠাণ্ডার স্তরের শ্বাস দ্বারা শীত নিক্ষেপ করে। তাই উভয় স্তরের অভিযোগ হয়ে গেল। যেমন হাদীসের শব্দ হলো - وهو اشد ما تجدون من الحر الخ

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.