Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ সফরে জোহরের নামাজ ঠাণ্ডার সময় পড়া

 باب الإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ فِي السَّفَرِ


পরিচ্ছেদ: সফরে জোহরের নামাজ ঠাণ্ডার সময় পড়া

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُهَاجِرٌ أَبُو الْحَسَنِ، مَوْلًى لِبَنِي تَيْمِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ الْمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَبْرِدْ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ فَقَالَ لَهُ ‏"‏ أَبْرِدْ ‏"‏‏.‏ حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَتَفَيَّأُ تَتَمَيَّلُ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু যার গিফারী (রা.) বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে ছিলাম। মুয়াযযীন যুহরের নামাজের জন্য আযান দিতে চাইলে আল্লাহর নবী (সা.) বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। (কিছুক্ষণ পরে) সে পুনরায় অনুমতি চাইলে তিনি এবারও বললেন, ঠান্ডা হতে দাও। এভাবে এত দেরী করলেন যে, আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের আগুনের অংশ বিশেষ। সুতরাং গরম প্রচন্ড হলে (যুহরের) নামাজ দেরী করে ঠান্ডায় আদায় করো।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ الْمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَبْرِدْ ‏"‏‏ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৬, ৭৭, ৮৭-৮৮, ৪৬১-৪৬২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো সম্ভবত ইমাম শাফেয়ীর মত খণ্ডন করা। কেননা, ইমাম শাফেয়ী انتياب من البعيد-এর শর্তারোপ করে থাকেন। অর্থাৎ ابراد তখনকার জন্য প্রযোজ্য হবে যখন লোকেরা দূর হতে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে আসে। তাদের প্রতি লক্ষ্য করে নামাজ বিলম্ব করা উত্তম।
ইমাম বুখারী বাবের হাদীস উল্লেখ করে তার মত খণ্ডন করে দিলেন এভাবে যে, এটি হলো সফরের সময়ের ঘটনা। আর সফরে انتياب من  بعيد-এর প্রশ্নই ওঠেনা। কারণ, সফরে সকল নামাজী তো সাথেই ছিলেন।  দূর হতে কারো আসার সম্ভাবনাই ছিলনা। তাসত্তেও নবী করীম (সা.) হযরত বিলাল (রা.)-কে বারবার নির্দেশ দিচ্ছিলেন ابْرِدْ اَبْرِدْ ;
ইমাম তিরমিযী শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী হওয়া সত্তেও বলেন-
قال ابو عيسي معني من ذهب الي تاخير الظهر في شدة الحر هواولي واشبه بالاتباع واما الرخصـة لـمـن ينتـاب مـن الـبـعـد وللـمـشقـة عـلـى الـناس فـان فـى حـديث ابـى ذر مـا يدل عـلـى خـلاف مـا قـال الـشافـعـى .... فـلـو كـان الامـر عـلـى مـاذهـب الـيـه الـشافـعـى لـم يكـن لـلابـراد فـى ذلك الـوقـت مـعـنى لاجـتـمـاعـهـم فـى الـسـفـر وكـانـوا لا ينتـابون مـن الـبـعـد
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.)-র তাবীল: হাফিজ আসকালানী এর তাবীল করেন যে- كان ذلك في السفر فلعله اخَّرَ الظهر حتي يجمعها مع العصر তিনি বলেন, এটি হলো সফরের ঘটনা, তাই নবী করীম (সা.)-এর ইচ্ছা ছিল জোহরের নামাজ আসরের সময় পড়া। অর্থাৎ এ বিলম্ব ছিল جمع بين الصلوتين-এর জন। এ জন্য নয় যে, জোহরের সময় مثلين পর্যন্ত থাকে।
জবাব: আমরা বলি তাঁর এ তাবীল মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এ তাবীলের না তো রেওয়ায়েতে কোনো ইঙ্গিত রয়েছে-আর নাতো শিরোনামে। এখানে তো ইমাম বুখারী সফরে জোহরের নামাজ ঠাণ্ডা সময়ে পড়ার ব্যাপারে বর্ণনা করতে চাচ্ছেন। যেমন পূর্বের বাবে ছিল ابراد في الحضر [নিবাসে জোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করা।] তাছাড়া হাদীসের শব্দের মধ্যে চিন্তা করলেও স্পষ্ট বুঝা যাবে যে এখানে اَبْرِدْ اَبْرِدْ বলা হয়েছে। যদি নবীজীর উদ্দেশ্য হতো جمع بين الصلوتين তাহলে তিনি বলতেন اَخِّر حتي نجمع
ইমাম বুখারীর একটি উত্তম নীতি: ইমাম বুখারীর একটি অভ্যাস হলো যদি কোনো হাদীসে এমন শব্দ আসে যা কুরআনেও আছে তখন তিনি ঐ শব্দেরও তাফসীর করে দেন। এখানে হাদীসে এসেছে فَىْءَ ; আর এ মূলবর্ণে কুরআন মাজিদের সূরা নাহলে আছে- يَتَفَيَّؤُ ظِللُهُ ; তাই তার তাফসীর বর্ণনা করে দিয়েছেন وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَتَفَيَّأ تَتَمَيَّلُ  অর্থাৎ তার ছায়া ডান-বামে ঝুঁকে পড়ে।
حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ : تُلُول শব্দটি تَل-এর বহুবচন। অর্থ, টিলা। হযরত আবু যর (রা.) বলেন, অতঃপর বিলাল (রা.) এত বিলম্ব করেছেন যে, আমরা টিলার ছায়া দেখতে পেয়েছি। আর তা এজন্য দেখতে পেয়েছেন যে, টিলা হয়ে থাকে বিস্তৃত ও ছড়ানো। তার তার ছায়া বিলম্বে প্রকাশ পায়।
বুখারীর অপর এক রেওয়ায়েতে আছে حتي ساوي الظل التلول অর্থাৎ টিলার ছায়া টিলা বরাবর হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ এক মিছল হয়ে গিয়েছিল। তখন নামাজ পড়েছেন। যা দ্বারা এটা স্পষ্ট বুঝে আসে যে, নামাজ দ্বিতীয় মিছলে হয়েছিল। আর জোহরের সময় দুই মিছল পর্যন্ত থাকে। এটিই হলো হানাফীদের ফতোয়াযোগ্য কওল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.