باب كَيْفَ تُهِلُّ الْحَائِضُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ
পরিচ্ছেদ: হায়েযগ্রস্ত মহিলা হজ এবং ওমরার ইহরাম কিভাবে বাঁধবে?
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ، فَقَدِمْنَا مَكَّةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَلَمْ يُهْدِ فَلْيُحْلِلْ، وَمَنْ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ وَأَهْدَى فَلاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ بِنَحْرِ هَدْيِهِ، وَمَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ فَلْيُتِمَّ حَجَّهُ ". قَالَتْ فَحِضْتُ فَلَمْ أَزَلْ حَائِضًا حَتَّى كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ، وَلَمْ أُهْلِلْ إِلاَّ بِعُمْرَةٍ، فَأَمَرَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَنْقُضَ رَأْسِي وَأَمْتَشِطَ، وَأُهِلَّ بِحَجٍّ، وَأَتْرُكَ الْعُمْرَةَ، فَفَعَلْتُ ذَلِكَ حَتَّى قَضَيْتُ حَجِّي، فَبَعَثَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَمِرَ مَكَانَ عُمْرَتِي مِنَ التَّنْعِيمِ.
অনুবাদ : উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমরা বিদায় হজ্জে আল্লাহর নবী (সা.)-এর সাথে মদিনা থেকে বের হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ ওমরার ও কেউ হজের ইহরাম বাঁধলো। আমরা মক্কা এসে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, যারা ওমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং কুরবানির পশু সাথে আনেনি তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা ওমরার ইহরাম বেঁধেছে ও কুরবানির পশু সাথে এনেছে তারা, যেন কুরবানি না করা পর্যন্ত ইহরাম না খোলে। উপরন্তু যারা হজের ইহরাম বেঁধেছে, তারা যেন হজ পূর্ণ করে। আয়িশা বলেন, আমি ঋতুবতী হলাম এবং আরাফার দিন পর্যন্ত আমার ঋতুস্রাব চলতে থাকলো। আমি কেবল ওমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। আল্লাহর নবী (সা.) আমাকে মাথার চুল খোলার, আঁচড়ানোর, হজের ইহরাম বাঁধার এবং ওমরা ত্যাগ করার নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম। এমনকি আমার হজ সমাধা করলাম। তারপর তিনি আমার সাথে আব্দুর রহমান ইবনে আবু করকে পাঠালেন এবং আদেশ দিলেন, তিনি যেন আমাকে মাকামে তানয়ীম থেকে বদলী ওমরা করার ব্যবস্থা করেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য أَهَلَّ بِحَجٍّ -এর সাথে। কারণ, এখানে হায়েযগ্রস্ত মহিরার হজের ইহরামের উলেখ রয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর হলো এটা বর্ণনা করা যে, হায়েযগ্রস্ত ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা ইহরাম বাঁধতে পারবে। তিনি শিরোনামের মধ্যে كيف শব্দটি উলেখ করে এটাই বর্ণনা করতে চান যে, হায়েযগ্রস্ত মহিলা কিভাবে অর্থাৎ কোন অবস্থায় ইহরাম বাঁধবে? অর্থাৎ গোসল করে ইহরমা বাঁধবে না কি গোসল ছাড়াই ইহরাম বাঁধবে? শিরোনামে বর্ণিত হাদীসে নবী করীম (সা.) হযরত আয়েশাকে হায়েয অবস্থায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, মাথার চুলের খোঁপা/বেণী খুলে ফেল এবং চুল আঁচড়ে নাও। এর দ্বারা গোসলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইমাম বুখারী এ হাদীসটি উলেখ করে জানিয়ে দিলেন যে, যদিও হায়েযগ্রস্ত মহিলা গোসল করা দ্বারা পবিত্র হবে না; কিন্তু পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করে নেওয়া উচিত। এ গোসলটি জুমহূরের মতে ওয়াজিব নয়; তবে আহলে যাহেরের মতে ইহরামের পূর্বে গোসল করা ওয়াজিব।
এরপর কথা হলো, এ দু’জন তথা হায়েয ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা তওয়াফ ও সা’য়ী ব্যতীত হজের যাবতীয় আহকাম পালন করতে পারবে। কারণ, তওয়াফের জন্য পবিত্রতা শর্ত, আর সা’য়ীর জন্য শর্ত হলো তওয়াফের পরে হওয়া। কাজেই যদি তওয়াফের পরে হায়েয হয় তাহলে সে সা’য়ী করতে পারবে।
কোন মন্তব্য নেই