পরিচ্ছেদ: কা’বা শরীফ ও অন্যান্য মসজিদের দরজা বানানো এবং তা বন্ধ করার বর্ণনা। আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন, আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন যে, আমাকে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ হতে তিনি বলেন যে, ইবনে মুলাইকা আমাকে বলেছেন যে, হে আব্দুল মালিক (এটা ইবনে জুরাইজের নাম) যদি তুমি ইবনে আব্বাসের মসজিদসমূহ এবং তার দরজাসমূহ দেখতে (তাহলে আশ্চর্যান্বিত হতে, অর্থাৎ সেগুলি ছিল খুবই মজবুত ও সুদৃঢ়) এ অনুবাদ হলো شرطية হওয়ার সূরতে। কিন্তু যদি لَوْ رَأَيْتَ مَسَاجِدَ-এর لَو কে আকাক্সক্ষাবাচক ধরা হয় তখন আর ইবারত উহ্য মানার হয় না।
ইবনে মুলাইকা এটা তখন বলেছিলেন যখন দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার কারণে মসজিদসমূহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি বলেছিলেন যদি তুমি দেখতে!
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ مَكَّةَ، فَدَعَا عُثْمَانَ بْنَ طَلْحَةَ، فَفَتَحَ الْبَابَ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَبِلاَلٌ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ، ثُمَّ أُغْلِقَ الْبَابُ، فَلَبِثَ فِيهِ سَاعَةً ثُمَّ خَرَجُوا. قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَبَدَرْتُ فَسَأَلْتُ بِلاَلاً فَقَالَ صَلَّى فِيهِ. فَقُلْتُ فِي أَىٍّ قَالَ بَيْنَ الأُسْطُوَانَتَيْنِ. قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَذَهَبَ عَلَىَّ أَنْ أَسْأَلَهُ كَمْ صَلَّى.
অনুবাদ: হযরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) মক্কায় এসে ওসমান ইবনে তালহাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি কা'বার দরজা খুলে দিলেন। আল্লাহর নবী (সা.) প্রবেশ করলেন এবং বিলাল, উসামা ইবনে যায়েদ ও ওসমান ইবনে তালহা তার সাথে থাকলেন। তারপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। তারপর তারা বাইরে এলেন। ইবনে ওমর বলেন, আমি দ্রুত গেলাম এবং বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) ভিতরে নামায আদায় করেছেন। আমি বললাম, কোথায়? তিনি বললেন, দুই স্তম্ভের মাঝখানে। ইবনে ওমর আরও বলেন, তিনি কত রাকাআত নামায আদায় করেছিলেন। এ কথা আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছি।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো মসজিদের মালামাল সংরক্ষণের জন্য অথবা অন্য কোনো প্রয়োজনে মসজিদের দরজা লাগানো ও তা বন্ধ করা জায়েয আছে। ইবনে বাত্তাল বলেন-اتخاذ الابواب للمساجد واجب মসজিদসমূজে দরজা লাগানো আবশ্যক। - ওমদাতুল কারী
আর একথা স্পষ্ট যে, মসজিদের মালামাল চোর থেকে হেফাজত করা আবশ্যক। তাছাড়া যদি দরজা না থাকে তাহলে সকল প্রাণী, জীব-জন্তু, কুকুর ইত্যাদি তার মধ্যে অবাধে বিচরণ করতে থাকবে। তাই মসজিদের সম্মানের চাহিদা এবং দাবীও এটাই যে, তাতে দরজা থাকবে, এবং নামাজের সময় তা খুলে দেওয়া হবে। আলহামদুলিল্লাহ ব্যাপকহারে এর উপর লোকদের আমল চলে আসছে।
ব্যাখ্যা: মসজিদে দরজা লাগানো এবং তা তালাবদ্ধ করা বাহ্যতঃ উত্তম কাজ বলে মনে হয় না। কারণ, মসজিদ তো নির্মাণ করা হয়েছে ইবাদত-বন্দেগী ও নামাজের জন্য। সুতরাং তা সর্বদা খোলা থাকাই সমীচিন বলে মনে হয়। সুতরাং তা তালাবদ্ধ করা, দরজা বন্ধ করে রাখা বাহ্যতঃ মসজিদে গমনে বাধা প্রদানেরই নামান্তর। অথচ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে মসজিদে গমনে বাধাপ্রদানের নিষেধাজ্ঞা এসেছে। কুরআনের আয়াত-
ومن اظلم ممن منع مساجد الله ان يذكر فيها اسمه (بقرة)
তার চেয়ে অধিক জালিম আর কে আছে যে আল্লাহর মসজিদে এ কাজে বাধাপ্রদান করে যে, তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হবে। তেমনিভাবে অন্য এক আয়াতে রয়েছে-
ارأيت الذي ينهي عبدًا اذا صلَّي
মোটকথা, এ সমস্ত আয়াত দ্বারা বাহ্যতঃ সংশয় সৃষ্টি হতে পারে যে, মসজিদে প্রবেশে বাধাপ্রদান ও তার উপকরণ জুলুম হবে।
ইমাম বুখারী (র.) এ শিরোনাম গঠন করে বলে দিলেন যে, আয়াতের স্থান ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। অর্থাৎ ইবাদতের উদ্দেশ্যে গমনে বাধাপ্রদান করা। যা এখানে নেই। তাই মসজিদের মালামাল সংরক্ষণ ও প্রাণী, কুকুর ইত্যাদির যাতায়াতে বাধাপ্রদানের জন্য তা বন্ধ করাই শ্রেয়। তবে যদি কোথাও এ ধরনের সমস্যা ও আশঙ্কা না থাকে তাহলে তাতে তালা লাগানো ও দরজা বন্ধ করা আবশ্যক হবে না।
কোন মন্তব্য নেই