Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সালাতঃ মসজিদে মুশরিক প্রবেশ করার প্রসঙ্গ

 باب دُخُولِ الْمُشْرِكِ الْمَسْجِدَ

পরিচ্ছেদ: মসজিদে মুশরিক প্রবেশ করার প্রসঙ্গ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْلاً قِبَلَ نَجْدٍ، فَجَاءَتْ بِرَجُلٍ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ يُقَالُ لَهُ ثُمَامَةُ بْنُ أُثَالٍ، فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (সা.) নজদের দিকে কিছু সংখ্যক আশ্বারোহী পাঠালেন। তারা ছুমামা ইবনে উছাল নামে হানিফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এনে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলো।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَرَبَطُوهُ بِسَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৬, ৬৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।


শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কোনো মুশরিক বা অমুসলিম ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করা জায়েয আছে। হানাফীদের প্রসিদ্ধ মতও এটিই। সুতরাং ইমাম বুখারী এ মাসআলায় হানাফীদের সমর্থন করছেন। কেননা, ইমাম বুখারী শিরোনামে কোনো শর্ত উল্লেখ করেননি। যা দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি সাধারণ/নিশর্ত প্রবেশের প্রবক্তা।

ইমামগণের মতামত: এ মাসআলায় ইমামগণের মতবিরোধ রয়েছে। যথা-

১.    হানাফীগণের মতে মসজিদে কাফের-মুশরিক প্রবেশ করতে পারবে। তাদের দলীল বাবের হাদীস; তাছাড়া আল্লামা শওকানী (র.) আরো একটি হাদীস দলীলস্বরূপ পেশ করেন। তা হলো- নবী করীম (সা.) বনী ছাকীফ প্রতিনিধিদলকে মসজিদে অবস্থান করিয়েছিলেন।

২.    ইমাম মালেক (র.)-এর তারা মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে না।

৩.    ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ (র.)-এর মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে পারবে না; তবে অন্যান্য মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে। হানাফীদের মধ্যে ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মতও শাফেয়ীদের ন্যায়- মসজিদে হারামে কাফের-মুশরিকদের প্রবেশ নাজায়েয। আল্লামা কাশ্মিরী (র.) বলেন, আমাদেরও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মাযহাব গ্রহণ করা উচিত। তাই আমাদের অনেক ফোকাহা এ কওলকে গ্রহণ করেছেন। (দুররে মুখতার)

জায়েয প্রবক্তাদের দলীল:

১.    ইমাম বুখারী দলীল দিয়েছেন যে, হযরত ছুমামা বিন উছাল কাফের ছিলেন, যখন নবী করীম (সা.) মসজিদে বেঁধেছিলেন।

২.    আল্লামা শওকানী বনী ছাকীফ প্রতিনিধিদলের হাদীস দ্বারা দলীল দিয়েছেন যে, এরা মুশরিক ছিল, তা সত্তেও নবী করীম (সা.) তাদেরকে মসজিদে অবস্থান করিয়েছিলেন।

৩.    আবু দাউদে যিমাম বিন ছা’লাবার ঘটনা দ্বারাও এ মাসআলার দলীল দিয়েছেন।

শাফেয়ী প্রমুখের দলীল: তাদের দলীল হলো কুরআনের আয়াত-

انما المشركون نجس فلا يقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا

অর্থাৎ মুশরিকরা সম্পূর্ণরূপে নাপাক, তাই এ বৎসরের পর থেকে তারা আর মসজিদে হারামের নিকটও যেতে পারবে না। এ আয়াতে দু’টি বিষয় রয়েছে। ১. মুশরিকরা নাপাক। ২. যার কারণে বিশেষত}ঃ মসজিদে হারামে তাদের প্রবেশ নিষেধ।

জবাব: আয়াতে নাপাকী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আকিদাগত নাপাকী-শারীরীক নাপাকী উদ্দেশ্য নয়। যেমন বনী ছাকীফ প্রতিনিধিদল সম্পর্কে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছিলেন-

انه ليس علي الارض من انجاس الناس شئ انما انجاس الناس علي انفسهم

মানুষের বাতেনী নাপাকী পৃথিবীতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের নাপাকীর প্রভাব তো তাদের অন্তরের উপর পড়বে। (আহকামুল কুরআন খ. ৩, পৃ. ৮৮)

রইল মসজিদে হারামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা? সুতরাং তার উত্তর হলো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হজ ও তওয়াফ হতে বাধা প্রদান করা। কিন্তু মসজিদের সম্মান ও সতর্কতার দাবী এটিই যে, মসজিদে হারামে তাদের প্রবেশের অনুমতি না হওয়া চাই। তাই এখনও সউদি সরকারের আমলও এর উপর রয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.