باب الاِسْتِعَانَةِ بِالنَّجَّارِ وَالصُّنَّاعِ فِي أَعْوَادِ الْمِنْبَرِ وَالْمَسْجِدِ পরিচ্ছেদ: মসজিদ ও মসজিদের মিম্বর নির্মাণে কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, কারিগর ইত্যাদির সহযোগিতাগ্রহণ প্রসঙ্গে حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلٍ، قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى امْرَأَةٍ أَنْ مُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ يَعْمَلْ لِي أَعْوَادًا أَجْلِسُ عَلَيْهِنَّ. অনুবাদ: হযরত সাহল (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) একজন নারীকে ডেকে পাঠান এবং বললেন, তুমি তোমার মিস্ত্রি ক্রীতদাসকে আদেশ দাও সে যেন আমার জন্য কিছু কাঠ মেরামত করে দেয়, যার ওপর আমি বসতে পারি। হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য স্পষ্ট। হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৫, ৬৪, ১২৫, ২৮১, ৩৪৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। حَدَّثَنَا خَلاَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلاَ أَجْعَلُ لَكَ شَيْئًا تَقْعُدُ عَلَيْهِ، فَإِنَّ لِي غُلاَمًا نَجَّارًا قَالَ " إِنْ شِئْتِ ". فَعَمِلَتِ الْمِنْبَرَ.
অনুবাদ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, একজন নারী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার জন্যে কিছু জিনিস নির্মাণ করে দিতে পারি, যার ওপর আপনি বসবেন? কারণ আমার একজন ক্রীতদাস মিস্ত্রি আছে। তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা হলে সে একটি মিম্বার নির্মাণ করে দিক। হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য স্পষ্ট। হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৪, ১২৫, ২৮১, ৫০৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, মসজিদ ও তার আনুসাঙ্গিক জিনিস যেমন দরজা, জানালা ইত্যাদি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজমিস্ত্রি ও অন্যান্য কারিগর প্রয়োজন হলে সকল প্রকার কারিগরের সহযোগিতা নেওয়া জায়েয হবে। কারণ, প্রতিটি কাজের লোক ভিন্ন। সকল কাজ সকলে করতে পারে না। বিভিন্ন কাজের বিভিন্ন লোক হয়ে থাকে। তাই কাঠের মিম্বর বানানোর প্রয়োজন হলে রাজমিস্ত্রির প্রয়োজন হবে। ইমাম বুখারী শিরোনামে تعميم بعد التخصيص দ্বারা স্পষ্ট ইঙ্গিত করে দিয়েছেন রাজমিস্ত্রি ছাড়াও অন্যান্য যে কোনো মিস্ত্রি, কারিগর ইত্যাদিদেরকেও মসজিদের কাজে লাগানো জায়েয হবে। ২. এটাও হতে পারে যে, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কানযুল উম্মালের রেওয়ায়েত- جنبوا مساجدكم من النجار و الصناع او كم قال ع বাহ্যতঃ এটি বাবের হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক। জবাব : এর উত্তর হলো বুখারীর হাদীসের তুলনায় এটি অপ্রাধান্য-যা দলীলযোগ্য নয়। ২. উত্তম জবাব হলো কানযুল উম্মালের হাদীসের উদ্দেশ্য হলো মিস্ত্রিরা যেন নিজেদের কাজ মসজিদে বসে করতে শুরু করে না দেয়। কিন্তু যদি তারা মসজিদের কাজ করে তাহলে তা নিঃসন্দেহে জায়েয হবে। যা বাবের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। ব্যাখ্যা: نَجَّار অর্থ কাঠমিস্ত্রি। صُنَّاع : শব্দটি صانع-এর বহুবচন, অর্থ কারিগর। প্রশ্ন: বাবের উভয় হাদীস পরস্পর সাংঘর্ষিক। কারণ, প্রথম হাদীসে রয়েছে যে, নবী করীম (সা.) নিজে মিম্বর তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, মহিলা নিজে নবী করীম (সা.)-এর নিকট দরখাস্ত করেছেন। জবাব: উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয়সাধনের সূরত হলো মূলতঃ প্রথমে মহিলা নিজে আবেদন করেছিল, কিন্তু তখন নবী করীম (সা.) প্রয়োজন অনুভব করেননি, তাই বিষয়টি মহিলার মর্জির উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই মহিলাও বিষয়টির ত্বরা অনুভব না করে বিলম্ব করতে লাগল। কিন্তু বিলম্ব দেখে নবী করীম (সা.) তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য মহিলাকে তলব করে নিজের থেকে নির্দেশ দেন। সুতরাং আরো প্রশ্ন রইল না।
কোন মন্তব্য নেই