Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ মসজিদ নির্মাণের ফযীলত সম্পর্কে

 باب مَنْ بَنَى مَسْجِدًا
পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণের ফযীলত সম্পর্কে
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ أَنَّ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، يَقُولُ عِنْدَ قَوْلِ النَّاسِ فِيهِ حِينَ بَنَى مَسْجِدَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم إِنَّكُمْ أَكْثَرْتُمْ، وَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ بَنَى مَسْجِدًا ـ قَالَ بُكَيْرٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ـ يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ ‏"‏‏
অনুবাদ: হযরত ওসমান ইবনে আফ্ফান (রা.) বলেন, যখন তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন, তখন লোকেরা তার সমালোচনা করে। সমালোচকদের জবাবে তিনি বলেন, তোমরা অনেক কিছু বললে। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করে দেবেন।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য مَنْ بَنَى مَسْجِدًا  -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো মসজিদ নির্মাণের ফযীলত বর্ণনা করা।
ব্যাখ্যা: এর দু’বাব পূর্বের হাদীসে অতিবাহিত হয়েছে যে, মসজিদে নববীকে হযরত উসমান (রা.)-এর পূর্বে হযরত ওমর (রা.) সম্প্রসারণ করেছিলেন। অতঃপর মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে হযরত উসমান (রা.) তার শাসনামল ৩০ হিজরীতে এতে ব্যাপক সম্প্রসারণ করেন। এবং তার দেয়ালে নকশী পাথর এবং চুনকাম করে অতি উন্নত ও শানদার বানিয়ে দেন। তখন লোকেরা অধিক পরিমাণে অভিযোগ উত্থাপন করতে থাকে। যেমন মুসলিম শরীফের হযরত মাহমূদ বিন লাবীদ হতে বর্ণিত আছে-
عن محمود بن لبيد ان عثمان  بن عفان (رض) اراد بناء المسجد فكره الناس ذلك فاحبوا ان يدعه علي هيئته فقال سمعت رسول الله (ص) يقول من بني مسجدا لله بني الله له في الجنة مثله
মাহমূদ বিন লাবীদ (রা.) হতে বর্ণিত, হযরত উসমান বিন আফফান (রা.) যখন মসজিদে নববীর নব-নির্মাণের ইচ্ছা পোষণ করেন তখন লোকেরা সমালোচনার ঝড় তুলল, এবং তারা চাইল মসজিদে নববী আগের অবস্থার উপর রাখা হোক। তখন উসমান (রা.) একটি হাদীস শুনালেন- যে, আমি নবী করীম (সা.) হতে শুনেছি যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহর তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।
من بني مسجدا : এখানে তানভীন প্রকার বর্ণনার জন্য। সুতরাং তা অন্তর্ভূক্ত  করে ছোট-বড় সব মসজিদকে। ইবারত হবে من بني مسجدا كبيرا او صغيرا
لِله : অর্থাৎ خالصًا لوجه الله একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লৌকিকতা বা সুনাম অর্জনের জন্য নয়। এমনকি ইবনুল জাওযী বলেন- من كتب اسمه علي المسجد الذي يبنيه كان بعيدا من الاخلاص অর্থাৎ যে ব্যক্তি মসজিদের দেয়ালে নিজের নাম খোদাই করবে, সে ইখলাস থেকে অনেক দূরে থাকবে, তথা সে মুখলিস নয়।
প্রশ্ন: মহান আল্লাহ বলেছেন- من جاء بالحسنة فله عشر امثالها অথচ এ হাদীসে আছে مثله في الجنة যা প্রশ্ন উত্থাপনের কারণ।
উত্তর: এর উত্তরসমূহ নিম্নরূপ-
১.    হাদীসে مثله বলা হয়েছে, এটা বলা হয়নি যে, একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ كيفية হিসেবে জান্নাতে ছোট-বড় ঘর হবে। আর আয়াতে বলা হয়েছে كمية-এর কথা। অর্থাৎ بني الله عشر ابنية مثله اذا الحسنة بعشر امثالها
২.    কারো মতে এ হাদীসটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বলা হয়েছে।
৩.    কারো মতে مثلية দ্বারা অতিরিক্ত হওয়ার নফী বুঝায় না।
৪.    مثلية দ্বারা ঘরের সদৃশ বুঝানো উদ্দেশ্য। নতুবা জান্নাতের ঘর তো অতি মূল্যবান হবে। যেমন এক হাদীসে আছে মসজিদ নির্মাণকারীদের জন্য জান্নাতে ইয়াকুত ও মুক্তা-খচিত ঘর নির্মিত হবে।
৫.    মূলতঃ একটি নেকীর বদলা একটি ছওয়াব হওয়া এটি হলো ইনসাফ, কিন্তু এর অধিক প্রদান করা এটি হলো আল্লাহর পক্ষ হতে অনুগ্রহ। - কুস্তুল্লানী

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.