Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ কাতারে পৌঁছার পূর্বে রুকু করা সম্পর্কে

 باب إِذَا رَكَعَ دُونَ الصَّفِّ

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنِ الأَعْلَمِ ـ وَهْوَ زِيَادٌ ـ عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ رَاكِعٌ، فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ ‏"‏‏.‏

পরিচ্ছেদ: কাতারে পৌঁছার পূর্বে রুকু করা সম্পর্কে

অনুবাদ: হযরত আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। একদিন তিনি আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে এমন সময় পৌঁছলেন, যখন তিনি নামাজে রুক‚ অবস্থায় ছিলেন। সুতরাং তিনি (আবু বাকরাহ) কাতারে শামিল হওয়ার পূর্বেই রুক‚ করে নিলেন। পরে তা আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে বর্ণনা করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন। তুমি পুনরায় (আর কোনদিন) এমন করবে না।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১০৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শিরোনাম হলো رَكَعَ دُونَ الصَّفِّ অর্থাৎ কাতারে পৌঁছার পূর্বে নিয়ত বেঁধে রুকু করে ফেললে তার হুকুম কি? অর্থাৎ এ রাকাত গ্রহণযোগ্য হবে কিনা?

ইমাম বুখারী হুকুম উলে­খ করেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো এ মাসাআলায় মতভেদ রয়েছে। জুমহূরের মতে কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়ানো মাকরূহ তানযীহি। ইমাম আহমদ ও ইসহাক (র.)-এর মতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জুমহূরের সমর্থন করা। তাই তিনি আবু বাকরা (রা.)-এর রেওয়ায়েত এনে তাদের সমর্থন করে দিলেন।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ  

ইমাম বুখারী এ বাবে হযরত আবু বাকরার হাদীস উলে­খ করেছেন। আবু বাকরা (রা.) একদা অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে এলেন। তখন নামাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। নবী করীম (সা.) রুকুতে চলে গিয়েছিলেন। তখন আবু বাকরা (রা.) মনে করলেন, যদি আমি কাতার পর্যন্ত পৌঁছতে যাই তাহলে রাকাত ফওত হয়ে যাবে। তাই তিনি কাতারের পিছনে থাকতেই নিয়ত করে রুকুতে চলে গেলেন। এবং রুকুতে থাকা অবস্থাতেই গিয়ে কাতারে শামিল হলেন। নামাজের পর নবী করীম (সা.) আবু বাকরাকে বললেন: زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ অর্থাৎ নবী করীম (সা.) তার কল্যাণকর কাজের প্রশংসা করলেন, এবং নামাজ পুনরায় পড়তে বলেননি। বুঝা গেল যে, নামাজ হয়ে গেছে। পুনরায় পড়া ওয়াজিব নয়।

আল্লামা কুস্তুল্লানী (র.) বলেন:اذا ركع المصلي دون الصف اي قبل وصوله الي الصف جاز مع الكراهة

কিন্তু নিয়মের পরিপন্থি হওয়ার কারণে মাকরূহ হবে। তাই নবী করীম (সা.) তাকে বললেন ভবিষ্যতে এরকম আর করা যাবে না। ইমাম বুখারী এ হাদীস এনে জুমহূর আইম্মার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করলেন।

لاَ تَعُدْ : এ শব্দটি তিনভাবে পড়া হয়েছে।

১.    لاَ تَعُدْ : তখন এটি عَادَ يعودُ عودًا  হতে نهي-এর সীগাহ। অর্থ হবে পুনরায় এমনটি আর করবে না। অর্থাৎ কাতারে শামিল হওয়ার পূর্বে রুকু না করা। এ রেওয়াতটিই অধিক প্রসিদ্ধ। আল্লামা আইনী (র.) বলেন:في جميع الروايات بفتح التاء وضم العين من العود

২.    لا تَعْدُ : তখন এটি عَدَا يَعْدُو عَدْوا হতে نهي-এর সীগাহ। অর্থ হবে ভবিষ্যতে নামাজের জন্য দৌড়ে আসবে না। যেমন আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসে আছে: قال رسول الله (ص) اذا اقيمت الصلوة فلا تأتوها وانتم تسعون الخ  অর্থাৎ নামাজের ইকামত বলা হলে তোমরা দৌড়ে এসো না। (ইবনে মাজাহ)

৩.    لا تُعِدْ : তখন اعاد يعيد اعادة হতে نهي-র সীগাহ। অর্থাৎ : لا تعد تلك الصلوة এ নামাজ দোহরানোর প্রয়োজন নেই।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.