حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ صَلَّى مَعَ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ بِالْبَصْرَةِ فَقَالَ ذَكَّرَنَا هَذَا الرَّجُلُ صَلاَةً كُنَّا نُصَلِّيهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَفَعَ وَكُلَّمَا وَضَعَ
পরিচ্ছেদ: রুকুতে তাকবীর পূর্ণ করার বর্ণনা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) হতে এটা বর্ণনা করেছেন, এবং মালিক ইবনে হুয়াইরিছ হতেও এধরনের রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে।
অনুবাদ: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বসরায় আলীর সাথে নামাজ আদায় করেছেন। ইমরান বর্ণনা করেছেন, এই ব্যক্তি অর্থাৎ আলী আমাদেরকে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায়ের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি উলেখ করলেন, আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায়কালে দেখতাম, তিনি রুক‚তে যাবার এবং রুক‚ থেকে উঠার সময় তাকবীর বলতেন।
অনুবাদ: হযরত আবু সালামা (রা.) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি লোকদের সাথে নামাজ আদায় করতেন। যখন রুক‚ বা সিজদায় যেতেন বা রুক‚ ও সিজদা থেকে উঠতেন, তখন তাকবীর বলতেন। নামাজ শেষ করে তিনি বলতেন, নামাজের ক্ষেত্রে আমি তোমাদের সবার চাইতে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে বেশী সাদৃশ্য রক্ষাকারী ব্যক্তি।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: إِتْمَامِ التَّكْبِيرِ বা তাকবীর পূর্ণ করা দ্বারা ইমাম বুখারীর কি উদ্দেশ্য? সে সম্পর্কে কয়েকটি কওল রয়েছে।
১. শায়খ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (র.) বলেন: المراد بالاتمام الاتيان به من غير ان يحذف في امارة بني اميَّة الخ (شرح تراجم) অর্থাৎ বনী উমাইয়ার শাসনামলে তাদের শাসকবর্গ যেমনিভাবে (তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্যান্য) তাকবীরগুলি বাদ দিয়ে দিত। তোমরা সেরকরম করো না; বরং এ সমস্ত তাকবীরগুলি ঠিকঠিক মত বল। সে তাকবীরগুলির একটি রুকুতে যাওয়ার তাকবীরও রয়েছে। অর্থাৎ কিয়াম হতে রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বল, এবং রুকু হতে ওঠার সময় سمع الله لمن حمدة বলার পর সিজদায় যাওয়ার সময়ও তাকবীর বল। ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো তাদের তাকবীর বর্জন করার মতকে খণ্ডন করা। তিনি বলেন, তাকবীরে তাহরীমা যা নামাজের শর্ত, এতদ্ভিন্ন এক রোকন হতে অন্য রোকনে যাওয়ার যে তাকবীরসমূহ আছে সেগুলিও সুন্নত, যা বাদ দেওয়া যাবে না।
২. আবু দাউদে [খ. ১. পৃ. ১২২] আব্দুর রহমান বিন আবযা (রা.) হতে একটি রেওয়ায়েত আছে :انه صلي مع رسول الله (ص) وكان (ص) لا يتم التكبير অর্থাৎ যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকবীর বলতেননা। এবং সিজদা হতে ওঠার সময়ও তাকবীর বলতেন না। ইমাম বুখারী এ শিরোনাম দ্বারা এ রেওয়াতটি দুর্বল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইমাম বুখারী ‘তারীখে কাবীরে’ আবু দাউদ তায়ালিসী হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন هذا عندنا باطل
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
জাহেরী ও ইমাম আহমদ (র.)প্রমুখের মতে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্যান্য তাকবীরগুলি বলা ওয়াজিব।
ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী ও মালেক (র.)-এর মতে এ তাকবীরগুলি সুন্নত। যেমন বাবের উভয় হাদীসেই আলী (রা.) এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর নামাজের আলোচনা রয়েছে। তারা প্রতি ওঠা-বসার সময় তাকবীর বলতেন।
اتمام التكبير-এর একটি অর্থ এই যে, তাকবীর স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্ণ সময়টুকু পর্যন্ত প্রলম্বিত করা। অর্থাৎ الله اكبر-কে এমনভাবে টেনে বলা যে, কিয়াম থেকে রুকুতে যাওয়া পর্যন্ত তেমনিভাবে কওমা হতে সিজদায় যাওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সময়টুকু তা ব্যাপ্ত করে নিবে। তবে সেক্ষেত্রে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক যে, الله শব্দের আলিফকে যেন কোনোভাবেই টানা না হয়। তখন সেটি প্রশ্নবোধক হামযা হয়ে যাবে, এবং অর্থ বিকৃত হওয়ার কারণে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। শুধুমাত্র الله শব্দের লামকে টানা যাবে।
কেউ কেউ আবু দাউদের রেওয়ায়েতের لا يتم التكبير-এর অর্থ এই করেছেন যে, কখনও কখনও নবী করীম (সা.) بيان جواز-এর জন্য এরূপ করতেন, অথবা তিনি পূর্ণরূপে শব্দ করে বলেননি; এদিকে রাবী আব্দুর রহমান বিন আবযা (রা.)-র পিছনে থাকার কারণে আওয়াজ শুনতে পাননি।
কোন মন্তব্য নেই