Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সালাতঃ মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা

 باب رَفْعِ الصَّوْتِ فِي الْمَسَاجِدِ

পরিচ্ছেদ: মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলা

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كُنْتُ قَائِمًا فِي الْمَسْجِدِ فَحَصَبَنِي رَجُلٌ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ اذْهَبْ فَأْتِنِي بِهَذَيْنِ‏.‏ فَجِئْتُهُ بِهِمَا‏.‏ قَالَ مَنْ أَنْتُمَا ـ أَوْ مِنْ أَيْنَ أَنْتُمَا قَالاَ مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ‏.‏ قَالَ لَوْ كُنْتُمَا مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ لأَوْجَعْتُكُمَا، تَرْفَعَانِ أَصْوَاتَكُمَا فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

অনুবাদ: হযরত সায়েব ইবনে ইয়াযিদ (রা.) বলেন, আমি একবার মসজিদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাকে পাথর ছুঁড়ে মারলো। তাকিয়ে দেখি ওমর ইবনে খাত্তাব। তিনি বললেন, যাও এবং এই দুই ব্যক্তিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাদেরকে তার কাছে নিয়ে এলাম। তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কোন্ গোত্রের বা কোন্ এলাকার? তারা বললো, আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেন, যদি তোমরা এই শহরের অধিবাসী হতে, তাহলে অবশ্য তেমাদেরকে শাস্তি দিতাম। কারণ তোমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর মসজিদে উচ্চকন্ঠে কথা বলছো।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য لَوْ كُنْتُمَا مِنْ أَهْلِ الْبَلَدِ لأَوْجَعْتُكُمَا تَرْفَعَانِ أَصْوَاتَكُمَا فِي  ، مَسْجِدِ  -এর সাথে।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا لَهُ عَلَيْهِ، فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ، فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيْتِهِ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى كَشَفَ سِجْفَ حُجْرَتِهِ وَنَادَى ‏"‏ يَا كَعْبُ بْنَ مَالِكٍ، يَا كَعْبُ ‏"‏‏.‏ قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ فَأَشَارَ بِيَدِهِ أَنْ ضَعِ الشَّطْرَ مِنْ دَيْنِكَ‏.‏ قَالَ كَعْبٌ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قُمْ فَاقْضِهِ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত কাব ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে মসজিদের মধ্যে ইবনে আবু হাদরাদের কাছে তার পাওনা অর্থ চাওয়ায় তাদের কথাবার্তার শব্দ উচ্চ হলো। এমনকি আল্লাহর রাসূল (সা.) ঘর থেকে তা শুনতে পেলেন। এরপর তিনি ঘরের পর্দা সরিয়ে তাদের কাছে এলেন এবং কা'বকে ডাক দিলেন। কা'ব বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত। তিনি হাত দিয়ে অর্ধেক ঋণ ক্ষমা করতে ইশারা করলেন, কা'ব বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাই করলাম। আল্লাহর রাসূল (সা.) ইবনে আবু হাদরাদকে বললেন, যাও বাকী ঋণ পরিশোধ করো।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৫, ৬৭, ৩২৬, ৩২৭, ৩৭৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (র.) বলেন- اي هو مكروه ولا ينبغي ان يقع من المتقي (شرح تراجم)

অর্থাৎ মসজিদে উচ্চেঃস্বরে কথা বলা মাকরূহ। এবং মুত্তাকীদের হতে এটা সংঘটিত না হওয়া চাই।

ব্যাখ্যা: ইমাম বুখারী শিরোনামে কোনো হুকুম লাগাননি। শুধুমাত্র উভয় ধরনের রেওয়ায়েত বর্ণনা করে দিয়েছেন। প্রথম রেওয়ায়েত দ্বারা উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা মাকরূহ হওয়া স্পষ্টভাবে বুঝা যায়। হযরত ওমর (রা.) উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার কারণে শাস্তি দেওয়ার ধমক দিয়েছেন।

আর দ্বিতীয় রেওয়ায়েত দ্বারা জায়েয হওয়া বুঝা যায়। কারণ, সেখানে ارتفعت اصواتكما সত্তেও নবী করীম (সা.) তাদেরকে কিছু বলেননি। এ দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনের পার্থক্য রয়েছে। এ কারণেই হানাফী ওলামায়ে কেরামের মতে বিনা প্রয়োজনে জোরে কথা বলা মাকরূহ। কিন্তু যদি দীন শিক্ষা-বিষয়ক কথা-বার্ত বা ওয়াজ-নসিহতের জন্য জোরে কথা বলার প্রয়োজন হয় তাহলে তা জায়েয হবে।

ইমাম মালেক (র.)-এর মতে প্রয়োজন হোক বা না হোক জোরে কথা বলা মাকরূহ।

শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন- والحديث الاول بحسب الظاهر موقوف الخ অর্থাৎ বাবের প্রথম হাদীস বাহ্যত}ঃ মাওকূফ। কারণ, এতে নবী করীম (সা.)-এর যুগের কথা উল্লিখিত নেই। কিন্তু ইমাম বুখারীর মতে এ রেওয়ায়েতটি মারফূ’। যেহেতু এতে মসজিদে নববীর কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এমন তিনশত হাদীস রয়েছে যাকে ইমাম বুখারী মারফূ’ বলেন, অথচ ইমাম মুসলিম সেগুলিকে বলেন মওকূফ।

মোটকথা, মসজিদে নববীতে শোরগোল করা মাকরূহ। যেমনিভাবে নবী করীম (সা.)-এর জীবদ্দশায় আদব রক্ষা করা জরুরী, তেমনিভাবে তাঁর ইন্তেকালের পর যেখানে তিনি আরাম করছেন, এখনও সেখানে নবীজীর আদব রক্ষার্থে মসজিদে নববীতে জোরে কথা বলা, হৈচৈ-শোরগোল করা মাকরূহ।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.