حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ ـ أَوْ لاَ يَخْشَى أَحَدُكُمْ ـ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ ".
পরিচ্ছেদ: ইমামের পূর্বে (রুকু, সিজদা) হতে মাথা উঠানোর গুনাহ সম্পর্কে
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নামাজে ইমামের পূর্বেই মাথা ওঠায়, সে কি আল্লাহ তার মাথা গাধার মাথায় পরিণত করার অথবা তাকে গাধার আকৃতি দান করার ভয় করে না?
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, ইমামের অনুসরণ যেমনিভাবে কাজের শুরুতে হতে হবে, তেমনিভাবে কাজের শেষেও হতে হবে। তা রুকুতে হোক বা সিজদায় হোক। হুকুমটি ব্যাপক, এর পরিপন্থি করা গুনাহের কারণ।
২. এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জাহেরীদের মত খণ্ডন করা, যারা বলে যে, ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেললে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। কেননা, এ সম্পর্কে ভীষণ ধমক এসেছে। তবে জুমহূরের নিকট এ কাজটি মাকরূহ। সে গুনাহগার হবে; কিন্তু নামাজ বাতিল হবে না। কেননা, নবী করীম (সা.) বাতিল সংক্রান্ত কোনো বাক্য বলেননি। ইমাম বুখারী এখানে জুমহূরের সমর্থন ও আনুকূল্য প্রকাশ করছেন। কেননা, শিরোনামে বাতিলমূলক কোনো বাক্য নেই। এবং উলিখিত হাদীসেও এমন কোনো বাক্য নেই।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
أَمَا : এখানে ما হরফে নফীর উপর প্রশ্নবোধক হামযাটি ধমক ও তিরষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
হাফিজ ইবনে হাজার (র.)-এর ঝোঁক এদিকে মনে হচ্ছে যে, হাদীসে শুধুমাত্র সিজদা হতে মাথা উত্তোলনের কারণেই এ শাস্তি হবে। যেমন আবু দাউদের রেওয়ায়েতে আছে:اذا رفع رأسه والامام ساجد
আমরা বলি সিজদার উপর কিয়াস করে রুকুও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, উভয়টিই গুরুত্বপূর্ণ রুকন। অথবা বলা যায় যে, যে সমস্ত রেওয়ায়েতে সিজদার কথা উলেখ আছে তা من باب الاكتفاء তথা একটির উলেখকে যথেষ্ট মনে করে অপরটিকে বাদ দেওয়ার নীতি অবলম্বিত হয়েছে। সিজদা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সিজদার কথাই বলা হয়েছে।
أَو يَجْعَلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ : এখানে او রাবীর সংশয়ের কারণে বলা হয়েছে। তাছাড়া এখানে দুটির কথা বলা হলেও উভয়ের মধ্যে কোনো দ্ব›দ্ব নেই। কারণ মাথা পরিবর্তন হলে চেহারা তো পরিবর্তন হবেই।
এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে, এখানে যে আকৃতি বিকৃতির কথা রয়েছে তা বাস্তবেই হবে না রূপক অর্থ উদ্দেশ্য হবে? এ ব্যাপারে উভয় ধরনের উক্তি পাওয়া যায়। ১. কেউ কেউ বলেন যে, বাস্তবেই এমনটি হবে। তখন প্রশ্ন হবে যে, উম্মতের জন্য তো বিকৃতির শাস্তি মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে এখানে কেন এটা বলা হলো?
উত্তর: যে হাদীসে বিকৃতি না হওয়ার কথা রয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সমগ্র উম্মতের আকৃতি বিকৃতি হবে না। কিন্তু বিক্ষিপ্ত ঘটনা এর পরিপন্থি নয়। যেমন তিরমিযী শরীফ ইত্যাদিতে বিকৃতি সম্পর্কিত হাদীস দ্বারা বিক্ষিপ্ত বিকৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
মোল্লা আলী কারী (র.) মিশকাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরকাতে একটি ঘটনা লিখেছেন। দামেস্কে এক শায়খ ছিল। যিনি পর্দার আড়াল হতে হাদীসের দরস দিতেন। ছাত্ররা শায়খের নিকট চেহারা দেখার আবেদন করার পর যখন তিনি পর্দা হটালেন তখন তারা দেখতে পেলো শায়খের চেহারা গাধার চেহারার ন্যায়। কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন তিনি এ হাদীসের প্রতি অবিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছায় ইমামের আগে সিজদা হতে মাথা উত্তোলন করেছিলেন। এটা দেখার জন্য যে, দেখি তো চেহারা বিকৃত হয় কিনা? পরবর্তিতে দেখা গেল যে, বাস্তবিকই চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। اللهم احفظنا
দ্বিতীয় কওল হলো এটি রূপক অর্থে হবে। যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নির্বুদ্ধিতা, বোকামী। কারণ, গাধার জন্য বোকামী একটি আবশ্যক বিষয়। তাছাড়া এও উদ্দেশ্য হতে পারে মৃত্যুর সময় বা কবরে বা পরকালে এ শাস্তি দেওয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই