পরিচ্ছেদ: যারা ইমামের পিছনে (মুক্তাদি) রয়েছে, তারা কখন সিজদা করবে? হযরত আনাস (রা.) বলেন, যখন ইমাম সিজদা করবে, তখন তোমরা সিজদা কর।
অনুবাদ: হযরত বারায়া (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) নামাজে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনে থাকেন) বলে রুকু থেকে মাথা উঠালেন। যতক্ষণ না তিনি সিজদায় যেতেন, ততক্ষণ আমাদের কেউ-ই পিঠ বাঁকা করতো না অর্থাৎ সিজদায় যেতো না। তিনি সিজদায় গেলে আমরাও সিজদায় যেতাম।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: পুর্বের বাবে একটি সমষ্টিগত নিয়ম বর্ণনা করেছিলেন যে: انما جعل الامام ليؤتم به ইমাম এজন্য নিযুক্ত করা হয়েছে যে, তার অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ মুক্তাদিরা নামাজে ইমামের অনুসারী। এখন এ বাবটি তার শাখা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ মুক্তাদিরা ইমামের অনুসরণ করবে।
ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এ বাব দ্বারা এটা প্রমাণ করা যে, মুক্তাদির জন্য ইমামের অগ্রগামিতা করা জায়েয নেই, এবং তার বিরোধিতাও জায়েয নেই। তবে মুক্তাদির জন্য مقارنت [সাথে সাথে চলা] বা معاقبت [পিছে পিছে চলা] উভয়ই জায়েয। مقارنت-এর অর্থ হলো যখন ইমাম রুকুতে যাওয়া শুরু করবে, তখন ইমামের সাথে তৎক্ষণাৎ মুক্তাদিও রুকুতে যাওয়া শুরু করবে। আর معاقبت অর্থ হলো প্রথমে ইমাম কোনো রুকন শুরু করবে, তারপর মুক্তাদি ইমামের পর উক্ত রোকনে যাওয়া শুরু করবে।
ইমাম বুখারীর ঝোঁক এ معاقبت বলে মনে হচ্ছে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
হযরত রশিদ আহমদ গাংগুহি (র.) বলেন, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, মুক্তাদির কাজ ইমামের কাজের পরে হবে। কিন্তু এই পরে হওয়াটা مقارنت بلا فصل তাৎক্ষণিক পরে হবে। এটিই ইমাম আবু হানিফা (র.) হতে বর্ণিত আছে। কিন্তু যদি কোনো ইমাম বয়োঃবৃদ্ধ হয় বা ধীরুজ তথা মন্থর গতিসম্পন্ন হয় তখন মুক্তাদিকে معاقبت করা উচিত। তবে এত বিলম্ব হতেই হবে যেন ইমাম থেকে অগ্রগামী না হয়।
নামাজের মধ্যে তিন ধরনের কাজ রয়েছে। ১. তাকবীরে তাহরীমা, ২. সালাম ফিরানো, ৩. অন্যান্য রুকন, যেমন রুকু, সিজদা ইত্যাদি। তাকবীরে তাহরীমার ক্ষেত্রে ইমামের অগ্রগামিতা ইমামগণের সর্বসম্মতিক্রমে নামাজ ভঙ্গের কারণ। আর সালামের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতা ইমামত্রয়ের মতে নামাজ ভঙ্গের কারণ। ইমাম আবু হানিফার মতে মাকরূহ। অন্যান্য রুকনে অগ্রগামিতা সর্বসম্মতিক্রমে নামাজ ভঙ্গের কারণ নয়। তবে মাকরূহে তাহরীমা। তবে জাহেরিয়াদের মাযহাব এবং ইমাম আহমদের এক কওল মতে নামাজ ভঙ্গের কারণ।
حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ ـ وَهْوَ غَيْرُ كَذُوبٍ : হাফিজ ইবনে হাজার, ইমাম নবভী ও আল্লামা খাত্তাবী (র.)-এর মতে বিশুদ্ধতম উক্তি হলো هو যমীরের মারজা’ হলেন হযরত বারা ইবনে আযেব (রা.)। সুতরাং এ বাক্যের উপর প্রশ্ন জাগে যে, সাহাবী তো নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। তার আবার সত্যায়নের প্রয়োজন কি?
উত্তর: এ বাক্যটি প্রত্যায়ন ও সুদৃঢ়করণের জন্য বলা হয়নি; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রেওয়ায়েতটিকে শক্তিশালীকরণ। অর্থাৎ হযরত বারা (রা.)-এর বাক্যে শক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে এজিদ এ বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। যেন হাদীসের ব্যাপারে কোনো সংশয় না থাকে। এ বাক্যটি এমনই যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) নবী করীম (সা.) বলেছিলেন:وهو الصادق المصدوق
প্রশ্ন: বাকী রইল মুবালাগার সীগাহ ব্যবহার করা হয়েছে, যার নফী দ্বারা মুবালাগার নফী হয়, মূল মিথ্যার নফী হয়না।
উত্তর: এর উত্তর হলো এখানে মুবালাগার كذوب শব্দটি ذو كذب-এর অর্থে হবে। সুতরাং كذوب-এর নয়; বরংذو كذب-এর অস্বীকার হবে। যেমন আল্লাহর বাণী: ان الله ليس بِظَلَّام للعبيد আরো আছে:وما انا بِطَلَّامٍ للعبيد দেখুন! এখানে এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ অধিক জুলুমকারী নন; বরং এর অর্থ আল্লাহ কোনোপ্রকার জুলূমকারীই নন। অর্থাৎ ظلام-এর নফী করা হয়নি; বরং ظلم-এর নফী করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই