Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ ইমাম এজন্য নির্ধারণ করা হয়

باب إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ

وصلى النبي صلى الله عليه و سلم في مرضه الذي توفي فيه بالناس وهو جالس وقال ابن مسعود إذا رفع قبل الإمام يعود فيمكث بقدر ما رفع ثم يتبع الإمام وقال الحسن فيمن يركع مع الإمام ركعتين ولا يقدر على السجود يسجد للركعة الآخرة سجدتين ثم يقصي الركعة الأولى بسجودها وفيمن نسي سجدة حتى قام يسجد


পরিচ্ছেদ: ইমাম এজন্য নির্ধারণ করা হয় যে, তার ইক্তেদা করা হবে।

এবং নবী করীম (সা.) অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে লোকদেরকে বসে ইমামতি করেছেন। (মুসল­ীরা দাঁড়িয়েছিল) হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যদি কোনো মুক্তাদি ইমামের পূর্বে (রুকুতে বা সিজদায়) মাথা উঠিয়ে ফেলে তাহলে সে পুনরায় ফিরে যাবে। (অর্থাৎ রুকু বা সিজদায় চলে যাবে) এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সে মাথা উঠিয়ে রেখেছিল ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে, এরপর ইমামের অনুসরণ করবে। হাসান বসরী (র.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি ইমামের সাথে দুই রাকাত পড়ে, (এবং মানুষের আধিক্যের কারণে) সিজদা করতে সক্ষম না হয় তাহলে সে শেষ রাকাতের জন্য দুটি সিজদা করবে, এবং প্রথম রাকাত সিজদাসহ কাজা করবে। আর যে ব্যক্তি সিজদা করতে ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে সে ফিরে গিয়ে সিজদা করবে। (অর্থাৎ এ ধারণা করবে না যে, আমি তো দাঁড়িয়ে গেছি, বরং সে কিয়াম ছেড়ে দিয়ে সিজদা করবে, অতঃপর সিজদার পর কিয়াম করবে। কেননা, সিজদা ফরজ)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَلاَ تُحَدِّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ بَلَى، ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَصَلَّى النَّاسُ ‏"‏‏.‏ قُلْنَا لاَ، هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ فَذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَصَلَّى النَّاسُ ‏"‏‏.‏ قُلْنَا لاَ، هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ فَقَعَدَ فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ ‏"‏ أَصَلَّى النَّاسُ ‏"‏‏.‏ قُلْنَا لاَ، هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ ‏"‏، فَقَعَدَ فَاغْتَسَلَ، ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ ‏"‏ أَصَلَّى النَّاسُ ‏"‏‏.‏ فَقُلْنَا لاَ، هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ـ وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ النَّبِيَّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ ـ فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي بَكْرٍ بِأَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ، فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ـ وَكَانَ رَجُلاً رَقِيقًا ـ يَا عُمَرُ صَلِّ بِالنَّاسِ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ‏.‏ فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ تِلْكَ الأَيَّامَ، ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ لِصَلاَةِ الظُّهْرِ، وَأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ، فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَنْ لاَ يَتَأَخَّرَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ ‏"‏‏.‏ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ‏.‏ قَالَ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهْوَ يَأْتَمُّ بِصَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ‏.‏ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَهُ أَلاَ أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ عَنْ مَرَضِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ هَاتِ‏.‏ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَدِيثَهَا، فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ هُوَ عَلِيٌّ‏.‏

অনুবাদ: হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি আয়িশা (রা.):এর কাছ গিয়ে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পীড়া (যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন) সম্পর্কে আমাকে কিছু বলবেন না? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, বলছি। আল্লাহর নবী (সা.) পীড়িত হয়ে পড়লে (রোগ যন্ত্রণা সাময়িকভাবে প্রশমিত হবার পর) জিজ্ঞাসা করলেন, লোকেরা কি নামাজ আদায় করবে? আমি বললাম, না, হে আল্লাহ রাসূল, বরং তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্য পানির ব্যবস্থা করো। আয়িশা বলেন, আমি তাই করলাম। তিনি গোসল করলেন এবং দাঁড়াতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু অচেতন হয়ে পড়ে গেলেন। চেতনা ফিরে এলে আবার জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি নামাজ আদায় করে নিয়েছে? উত্তরে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা নামাজ আদায় করেনি, বরং আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এদিকে লোকজন ইশার নামাজে আল্লাহর নবী (সা.)-এর জন্য মসজিদে অপেক্ষমান ছিল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নবী (সা.) (বাধ্য হয়ে) লোক পাঠিয়ে আবু বকরকে লোকজনের নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিলেন। সংবাদ বাহক তাঁর কাছে গিয়ে বললো, রাসূল (সা.) আপনাকে লোকজনকে সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করার নির্দেশ প্রদান করছেন। আবু বকর ছিলেন কোমল স্বভাবের অধিকারী। তাই তিনি ওমরকে বললেন, হে ওমর! তুমি লোকজনকে সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করো। (অর্থাৎ ইমামতি করো)। ওমর বললেন, আপনিই এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যক্তি। সুতরাং আবু বকর ঐ কয়দিন ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করলেন। এরপর রোগের প্রকোপ কিছুটা কমে গেলে আল্লাহর নবী (সা.) দুই জনের সাহায্য নিয়ে, যাদের একজন ছিলেন আব্বাস, যুহরের নামাজের জন্য এলেন। তখন আবু বকর লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে দেখে পিছিয়ে আসতে উদ্যত হলে আল্লাহর নবী (সা.) তাঁকে না সরতে ইংগিত করলেন। তারপর বললেন, তোমরা দুইজনে আমাকে তার (আবু বকর) পাশে বসিয়ে দাও। সুতরাং তারা তাঁকে আবু বকরের পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ণনকারী বলেন, এ সময় আবু বকর এমনভাবে নামাজ আদায় করছিলেন যে, তিনি আল্লাহর নবী (সা.)-এর নামাজের অনুসরণ করছিলেন অথচ লোকেরা আবু বকরের অনুসরণ করছিল। আল্লাহর নবী (সা.) তখন উপবিষ্ট ছিলেন। উবায়দুল্লাহ বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আয়িশা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পীড়া সম্পর্কে আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনাকে অবহিত করবো না? তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস: বললেন, বলো সুতরাং আমি তাঁর (আয়িশার) বর্ণিত হাদীস আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে শুনালাম। তিনি একটি কথা ব্যতীত (এর) কোন কথাই অস্বীকার করলেন না। তিনি বললেন, আব্বাসের সাথে আর যে লোকটি ছিলেন, তাঁর নাম কি আয়িশা তোমাকে বলেছেন? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সে লোকটি ছিলেন আলী।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي وَهْوَ يَأْتَمُّ بِصَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ  وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩২-৩৩, ৯১-৯২, ৯৪, ৯৫, ৯৮, ৯৯, ৩৫২, ৪৩৭, ৬৩৯, ৮৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

 حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ وَهْوَ شَاكٍ، فَصَلَّى جَالِسًا وَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, পীড়িত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজ ঘরে বসে বসে নামাজ আদায় করেছেন, আর তাঁর পিছনে একদল লোক দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে তিনি তাদেরকে ইংগিত করে বসতে বললেন। নামাজান্তে তিনি লোকজনের দিকে ফিরে বললেন, অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং ইমাম রুকু করলে রুকু করবে এবং মাথা উঠালে মাথা উঠাবে। ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে আল্লাহ তা শুনেন) বলবে, তখন তোমরা বলবে রাব্বানা লাকাল হামদ (হে আমাদের প্রভু সব প্রশংসা তোমারই জন্য)। আর ইমাম বসে নামাজ আদায় করলে তোমরাও সবাই বসেই নামাজ আদায় করবে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৯৫, ৯৬, ১৫০, ১৬৫, ৮৪৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ، فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ، فَصَلَّى صَلاَةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهْوَ قَاعِدٌ، فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏"‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ‏.‏ وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ الْحُمَيْدِيُّ قَوْلُهُ ‏"‏ إِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ‏"‏‏.‏ هُوَ فِي مَرَضِهِ الْقَدِيمِ، ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ قِيَامًا، لَمْ يَأْمُرْهُمْ بِالْقُعُودِ، وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ بِالآخِرِ فَالآخِرِ مِنْ فِعْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) এক সময়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে পেটের ডান পাশে (পাঁজরে) সামান্য আঘাত পান। সুতরাং এক ওয়াক্ত নামাজ তিনি বসে বসে আদায় করলেন। আমরাও তাঁর পিছনে বসে বসেই নামাজ আদায় করলাম। পরে (নামাজ শেষে) তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন, অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। ইমাম দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে, তোমরাও দাঁড়িয়ে আদায় করবে। রুকু করলে রুকু করবে মাথা উঠালে মাথা উঠাবে এবং যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে আল্লাহ তা শুনেন) বলবে। আর ইমাম বসে নামাজ আদায় করলে, তোমরাও সবাই বসেই নামাজ আদায় করবে। ইমাম বোখারী বলেন, হুমাইদী বর্ণনা করেছেন, ইমাম বসে নামাজ আদায় করলে তোমরাও বসেই আদায় করবে। আল্লাহর রাসূল (সা.) এ কথাটি তাঁর প্রথমোক্ত রোগের অর্থাৎ ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ার সময়কার বর্ণনা। পরবর্তী সময়ে আল্লাহর নবী (সা.) (তাঁর মৃত্যু-রোগে) বসে নামাজ আদায় করলেও লোকেরা (তাঁর পিছনে) দাঁড়িয়ে তাঁকে অনুসরণ করেছে। এ সময় তিনি তাদেরকে বসতে নির্দেশ দেননি। এটি পরবর্তী কালে সংঘটিত কাজ। আর আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সর্বশেষ কাজ অনুযায়ীই আমল করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৯৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শিরোনামে ইমাম বুখারী বাবের দ্বিতীয় হাদীসের অংশ বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ ইমামকে ইমাম এজন্যই বানানো হয়েছে যে, নামাজের সকল কাজে (কিয়াম, রুকু, সিজদা) তাঁর অনুসরণ করা হবে, ইমামের বিরোধিতা বা তার পূর্বে কোনো কাজ সম্পন্ন করা জায়েয হবে না। (তবে ঐ সমস্ত কয়েকটি কাজ করা যাবে যা নস দ্বারা ব্যতিক্রমী)

ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য তাঁর উলে­খকৃত তা’লীকসমূহ দ্বারা স্পষ্ট। উদাহরণতঃ শিরোনামের প্রথম তা’লীক: وصل النبي (ص) في مرضه الذي توفي فيه وهو جالس اي والناس خلفه قياما ولم يأمرهم بالجلوس এ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে: انما جعل الامام ليؤتم به এটি একটি মূলনীতি। কিন্তু তা হতে এটি ব্যতিক্রম। যেমন শায়খ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, اذا صلي جالسا فصلوا جلوسا এটি মানসূখ হয়ে গেছে। যেহেতু নবী করীম (সা.) مرض الوفاة-এ বসে নামাজ পড়িয়েছেন, আর সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন।

তাছাড়া ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হাম্বলীদের মতকে খণ্ডন করা এবং হানাফী ও জুমহূরের মতকে সমর্থন করা।

ইমাম যদি ওজরের কারণে বসে নামাজ পড়ে তাহলে মুক্তাদী তার একতেদা কীভাবে করবে তার পদ্ধতি নিয়ে ফকীহগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনটি মত বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।

১.    ইমাম আবূ হানীফা (র.), ইমাম শাফেয়ী (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.), সুফিয়ান ছাওরী (র.), আবূ ছাওর (র.) ও ইমাম বুখারী (র.)-এর। তাদের মতে উপবিষ্ট ইমামের পিছনে একতেদা করা জায়েজ আছে, তবে যেসব মুক্তাদীর ওজর নেই এক্ষেত্রে তাদের জন্যে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা জরুরী। বসে একতেদা করা জায়েজ নেই। কারণ বিনা ওজরে বসে নামায আদায় জায়েয নয়।

২.    ইমাম মালেক (র.) ও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মত হচ্ছে যে, ইমাম বসে নামাজ পড়লে তার পিছনে কোনো অবস্থাতেই একতেদা জায়েজ নেই, বসেও নয়; দাঁড়িয়েও নয়।

৩.    ইমাম আহমদ (র.) ও যাহেরিয়্যাদের মতে, ইমাম যদি অসুস্থ হয় এবং বসে নামাজ পড়ে তাহলে তার পিছনে নামাজ পড়া জায়েজ আছে, তবে মুক্তাদীদের জন্যও বসে নামাজ আদায় করা জরুরী। তবে শর্ত হলো বেতনভুক্ত ইমাম হতে হবে, এবং তার রোগ পুনরায় নিরাময়যোগ্য।

তবে এমতাবস্থায় ইমামের উচিত যদি তিনি দাড়িয়ে নামায পড়াতে সক্ষম না হন তাহলে তার স্থলবর্তী নিযুক্ত করে দিবেন।

ইমাম মালিক (রা.) প্রমুখের দলীল হালো একটি মুরসাল রেওয়ায়েত: لا يؤم احد بعدي جالساً জুমহূর একে মাকরূহ তানযীহির উপর প্রয়োগ করেছেন।

ইমাম আহমদ (র.)-এর দলীল হলো বাবের দ্বিতীয় হাদীস। অর্থাৎ হাদীস নং ৬৬১, এর উত্তর অতিবাহিত হয়েছে যে, এটি মানসূখ হয়ে গেছে। এছাড়া আরো অন্যান্য তাবীলও করা হয়েছে।

তা’লীকসমূহের ব্যাখ্যা:

وصلى النبي صلى الله عليه و سلم : এর ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে যে, এটি নাসেখ, আর বাবের দ্বিতীয় হাদীসটি হলো তার জন্য মানসূখ।

 وقال ابن مسعود : ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এ উক্তি দ্বারা বুঝা গেল যে, ইমামের ইক্তেদা করা মুক্তাদির উপর আবশ্যক। এর দ্বারা শিরোনাম উত্তমরূপে প্রমাণিত হয়ে গেল।

মাসআলা হলো এই যে, ইমামের পূর্বে মাথা উঠিয়ে ফেললে তখন ফিরে যাবে যদি ইমাম তখনও সিজদায় থাকে। এটিই হলো হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের মাযহাব। এর দ্বারাও ইমামের ইক্তেদা প্রমাণিত হলো যে, মুক্তাদি ইমামের আগে না ওঠা, আর যদি উঠে যায় তাহলে ফিরে গিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করবে।

وقال الحسن : এ আছরের মধ্যে দুটি মাসআলা রয়েছে।

মাসআলা: ১. যদি কোনো ব্যক্তি দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজ উদাহরণতঃ জুমা বা ফজরের নামাজে ইমামের এক্তেদা করেছে। কিন্তু ভিড়াভিড়ি বা অন্য কোনো কারণে সিজদা করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে হাসান বসরী বলেন, ইমামের সালাম ফিরানোর পর প্রথমে দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা করে তা পূর্ণ করবে, এরপর প্রথম রাকাত সিজদাসহ কাজা করবে। আল্লামা আইনী এর কারণ বলেন: لاتصال الركوع الثاني به

এর দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেল যে, মুক্তাদিকে যথাসম্ভব ইমামের অনুসরণ করা উচিত। যদি বাধ্যবাধকতার কারণে কোনো রোকন ফওত হয়ে যায় তাহলে পরবর্তিতে তা আদায় করার সূরত বর্ণনা করা হচ্ছে।

জুমহূর ফোকাহাগণ বলেন, যেভাবেই সম্ভব হোক সিজদা করে নিবে। যদিও সামনের কাতারের লোকদের পিঠের উপর হয়। এটিই হলো হানাফী, শাফেয়ী, আহমদ ও ইসহাক (র.)-এর মাযহাব।

ইমাম মালেক ও যুহরী (র.)-এর নিকট পিঠের উপর সিজদা করলে নামাজই হবে না।

মাসআলা: ২: যদি কোনো ব্যক্তি নামাজের শুরুতে একটি সিজদা করতে ভুলে গেল, এবং দাঁড়ানোর পর স্মরণ হলো, তাহলে তাকে কিয়াম ছেড়ে তৎক্ষণাৎ সিজদা করা উচিত। এরপর ইমামের সাথে কিয়ামে অংশগ্রহণ করবে। আর যদি তৎক্ষণাৎ স্মরণ না হয়; বরং দ্বিতীয় রাকাতে স্মরণ হয় তাহলে তিনটি সিজদা করবে। আর যদি নামাজ শেষ হওয়ার পর স্মরণ হয় তাহলে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।

ব্যাখ্যা:  ইমাম বুখারী এ বাবের অধীনে তিনটি হাদীস উলে­খ করেছেন। প্রথম হাদীসের শব্দ-বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার জন্য দেখুন নাসরুল বারী দ্বিতীয় খণ্ড, হাদীস নং ১১৮ ও  কিতাবুল মাগাযী হাদীস নং ৫৩৩


প্রশ্ন: প্রথম হাদীসে হযরত আবু বকর (রা.) ওমর (রা.)-কে বললেন: صل بالناس লোকদের নামায পড়িয়ে দেন। এখানে প্রশ্ন হলো নবী করীম (স.) যেখানে আবু বকর (রা.)-কে নামাজ পড়ানোর নির্দেশ দিলেন, তারপরও তিনি কেন ওমর (রা.)-কে নামাজ পড়াতে বললেন?

উত্তর: ১. হযরত আবু বকর (রা.) যেহেতু নরমদিল লোক ছিলেন, তাই তিনি বলেছিলেন যে, সম্ভবত আমি নামাজ পড়াতে পারব না। ২. আবু বকর (রা.) মনে করেছিলেন যে, এটি হলো ইমামতে সুগরা, যা ইমামতে কুবরা (খেলাফতের দায়িত্ব)-এর ভূমিকাস্বরূপ। আর সম্ভবত আমি ইমামতে কুবরার মহান দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবো না। ৩. আবু বকর (রা.) এটা মনে করেছিলেন যে, নবী করীম (সা.) সম্ভবতঃ আমাকে সম্মান প্রদর্শনার্থে বলেছেন। আসল উদ্দেশ্য হলো নামাজ পড়ানো। তাই তিনি ওমরকে বললেন যে, তুমি নামাজ পড়াও।

দ্বিতীয় হাদীস:

صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ : بيت দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরা মোবারক। এটি হলো ৫ম হিজরীর ঘটনা। যখন নবী করীম (সা.) ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে গিয়েছিলেন, এবং পা-মোবারক মচকে গিয়েছিল, আবার পায়ের গোছায়ও আঘাত লেগেছিল। তখন তিনি ঘরে বসেই নামাজ আদায় করতেন।

তৃতীয় হাদীস: এ হাদীসেও ঐ ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বিবৃত হয়েছে। হযরত আনাস (রা.) বলেন, এটি ৫ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল।

বিষয়টি বিতর্কিত। এ সম্পর্কিত ওলামায়ে কেরামের অভিমত বর্ণিত হয়েছে। এবং এটাও বর্ণিত হয়েছে নবী করীম (সা.)-এর মৃত্যুরোগ-সংক্রান্ত হাদীস দ্বারা এটি মানসূখ হয়ে গেছে। যেহেতু নামাযে কিয়াম তথা দাড়ানো ফরয, আর মুক্তাদির কোনো ওযর নেই। (তাই তারা বসে ইক্তেদা করতে পারবেনা)


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.