পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নামাজের অপেক্ষায় মসজিদে বসে থাকে, এবং মসজিদের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণনা
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি অজু সহকারে নামাজের অপেক্ষায় মুসাল্লায় বসে থাকে, তখন ফিরিশতারা তার জন্য এই বলে দোয়া করতে থাকেন, হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম করো। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির নামাজই তাকে বাড়িতে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে নামাজেরত আছে বলে গণ্য হবে।
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, সাত প্রকার লোককে আল্লাহ নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। (এই সাত প্রকার লোক হচ্ছে) ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক ২. যে যুবক তার প্রভুর (আল্লাহর) দাসত্ব করতে করতে বড়ো হয়েছে ৩. যে ব্যক্তির মন মসজিদের সাথে বাঁধা ৪. যে দুটি লোক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যেই মিলিত হয়, আবার আল্লাহরই উদ্দেশ্যে বিচ্ছিন্ন হয়। ৫. যে ব্যক্তি মর্যাদাসম্পন্না রূপসী নারীর আহ্বানকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করে আমি আল্লাহকে ভয় করি ৬. যে ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি খরচ করছে তা তার বাম হাত জানতে পারে না এবং ৭. যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্র“ধারা বইতে থাকে।
অনুবাদ: হযরত হুমাইদ (রা.) বর্ণনা করেছেন, আনাসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আল্লাহর রাসূল (সা.) আংটি পরতেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, একদিন তিনি দেরী করে অর্ধ রাতে ইশার নামাজ আদায় করলেন। নামাজ আদায় করার পর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা নামাজ আদায় করে ঘুমায়। (কিন্তু যতক্ষণ তারা নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, ততক্ষণ তারা নামাজের মধ্যেই ছিল বলে গণ্য হবে। আনাস (রা.) বলেছেন, আমি এ সময় তাঁর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী এটা বর্ণনা করতে চাচ্ছেন যে, মসজিদে বসা ছওয়াবের কারণ তখনই হবে যদি নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে।
২. মসজিদে গিয়ে মুক্তাদিদের যদি কিছুক্ষণ দেরীও হয়ে তাহলে বিরক্ত না হওয়া উচিত। বরং পূর্ণ প্রশান্তি ও ধৈর্যের সাথে বসে থাকবে, যেন জামাতের সংখ্যা অধিক হয়। কেননা জামাতে লোকের সংখ্যা যত অধিক হবে ছওয়াব তত বেশী হবে। এমাতাবস্থায় দ্বিগুণ ছওয়াব পাবে। ১. নামাজের জন্য অপেক্ষার কারণে, ২. জামাতের সংখ্যা অধিক হওয়ার কারণে।
ব্যাখ্যা:
এ বাবটি হলো পূর্বের বাবের পরিপূরক। কারণ যখন জামাতের জন্য বসে থাকাটা ফযীলতের বিষয়, তাহলে জামাতে পড়া কতইনা ছওয়াবের কারণ হবে।
এ বাবে ইমাম বুখারী তিনটি হাদীস উলেখ করেছেন। প্রথম হাদীসের তাফসীল পূর্বের বাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, ফেরেশতাদের দোয়ার হকদার তারাই হবে যারা জামাতের অপেক্ষায় বসে থাকে। আর জামাতের জন্য যারা বসে থাকবে তারা অযুসহ থাকবে।
দ্বিতীয় হাদীসে আছে:
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ :
প্রশ্ন: আল্লাহর আরশের ছায়ায় অবস্থানকারীদের সংখ্যা এখানে ৭ জনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ সাত সংখ্যাটি সীমাবদ্ধের জন্য নয়। কারণ এতদ্ভিন্ন আরো অনেকেই আছেন, যারা এ ফযীলতের অধিকারী হবে। যেমন হাদীসে আছে যারা ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দিবে বা ঋণ মওকুফ করে দিবে সেও আরশের নিচে স্থান পাবে। তাফসীলের জন্য দেখুন ফতহুল বারী।
فِي ظِلِّهِ :
প্রশ্ন: ছায়া হয় দেহবিশিষ্ট জিনিসের। আর আল্লাহ তা‘আলা منزَّه من الاجساد
উত্তর: ১. في ظله-এর মধ্যে আল্লাহর দিকে ছায়ার ইযাফতটি হলো اضافة الملك কারণ, সবকিছুই তো তার মালিকানাধীন। যেমন كعبة الله ২. কেউ বলেছেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো حمايت الله তথা আল্লাহর সংরক্ষণ। ৩. কেউ কেউ বলেছেন আল্লাহর ছায়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আরশের ছায়া। যেমন একটি হাদীসে বিষয়টি স্পষ্ট আছে سبعة يظلهم الله في ظل عرشه
কোন মন্তব্য নেই