পরিচ্ছেদ: মিসওয়াকে বড়কে প্রদান করা প্রসঙ্গে। হযরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, আমি ঘুমের মধ্যে দেখলাম যে, আমি একটি মিসওয়াক নিয়ে মিসওয়াক করছি। এমন সময় আমার কাছে দুইজন লোক এলো। একজন অপরজন অপেক্ষা বড়। আমি তাদের মধ্যে ছোট জনকে মিসওয়াক দিতে গেলাম। কিন্তু আমাকে বলা হলো, বড়জনকে দিন। আমি তাদের বড়জনকে দিলাম।
ইমাম বুখারী বলেন, নুআইম ইবন মুবারক থেকে আবু উসামা ও নাফে’ সূত্রে ইবনে উমর (রা.) থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
পূর্বের সাথে যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট, অর্থাৎ উভয় বাবই মিসওয়াক সম্পর্কিত।
বাবের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন, এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো মিসওয়াকের ফযীলত বর্ণনা করা। নবী করীম (সা.)-এর অভ্যাস ছিল যখন কোনো সাধারণ জিনিসও তার নিকট আসত তিনি তা বড়দেরকে দিতেন। তো যেহেতু সাধারণতঃ মিসওয়াককে লোকেরা মামুলী জিনিস মনে করে তাই তিনি প্রথমে ছোটকে দিতে চাইলেন। এমন সময় মিসওয়াকের বিষয়ে ওহী আসল যে, বড়কে দিন। এর দ্বারা বুঝা গেল যদিও বাহ্যতঃ ইহা সাধারণ জিনিস; কিন্তু দীনি এবং দুনিয়ার দিক থেকে এর মর্যাদা অনেক বড়।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
হাদীস হতে উদ্ভাবিত মাসআলা:
১. আল্লামা আইনী বলেন, এর দ্বারা বুঝা গেল যে, অপরের ব্যবহৃত মিসওয়াক ব্যবহার করা মাকরূহ নয়; তবে উত্তম হলো তা ধুয়ে ব্যবহার করা।
২. মুহাল্লাব বলেন, প্রত্যেক বিষয়ে তুলনামূলক বয়ষ্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম। যতক্ষণ পর্যন্ত মজলিস গঠিত না হয়। মজলিস গঠিত হলে বিতরণকারীর ডান দিকের জনকে অগ্রাধিকার দিবে।
৩. এ হাদীস দ্বারা এটাও জানা গেল যে, যারা বয়সে বড় তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখা এবং তাদের সম্মান প্রদর্শন করা আবশ্যক। বিশেষ করে বৃদ্ধদের। কারণ, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে:من لم يرحم صغيرنا ولم يوقر كبيرنا فليس منا যে ব্যক্তি ছোটদেরকে স্নেহ করলনা, এবং বড়দেরকে সম্মান করলনা সে আমাদের মধ্য হতে নয়। আবু দাউদ শরীফ দ্বিতীয় খণ্ডের কিতাবুল আদবে হাদীস রয়েছে:ان من اجلال الله اكرم ذي الشيبة المسلم অর্থাৎ বড়দের সম্মান দেখানোও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মর্যাদা প্রদর্শনের মধ্যে গণ্য।
قال ابو عبد الله الخ : ইমাম বুখারী বলেন, নুআইম এ হাদীসকে সংক্ষেপ করেছেন। (অর্থাৎ সারমর্ম বর্ণনা করেছেন) আসল ঘটনা হলো স্বপ্নের। যেমন এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর মুসলিম শরীফ দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে। যাতে আছে: اراني في المنام اتسوَّك বুঝা গেল যে, আসল ঘটনা হলো স্বপ্নের। সম্ভবত এ কারণেই ইমাম মুসলিম একে كتاب الرؤيا-তে বর্ণনা করেছেন। যার উপর জাগ্রত অবস্থায় আমল করা হয়েছে। যেমন আবু দাউদ শরীফে কিতাবুত্তাহারাতে (পৃ. ৭) হযরত আয়েশা (রা.)-এর রেওয়ায়েত আছে যে, নুআইম সংক্ষেপ করেছেন। যার দ্বারা বুঝা গেল যে, ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন। যদিও সম্ভাবনা আচে এরও।
কোন মন্তব্য নেই