অনুবাদ: হযরত আবু ওয়ায়েল (রা.) বলেন, আবু মূসা আশয়ারী প্রশাবের ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি করতেন এবং বলতেন বনী ইসরাইলরা তাদের কাপড়ে অপবিত্রতা লাগলে তা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতো। এ কথা শুনে হুযাইফা (রা.) বললেন, খুবই ভাল হতো, যদি তিনি এমন (কড়াকড়ি) না করতেন। কেননা আল্লাহর রাসূল (সা.) একদিন লোকজনের আবর্জনা ফেলার স্থানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেছিলেন।
বাবের উদ্দেশ্য: হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন قصد المؤلف اثبات ان البول علي سباطة قوم غير الخ ইমাম বুখারী উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, গোত্রের ডাস্টবিনে প্রস্রাব করার জন্য তাদের থেকে অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। কারণ ডাস্টবিন হলো ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান, এবং এর দ্বারা তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। তাই ময়লা ফেলার স্থানে প্রস্রাব করার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়না।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ : এ হাদীসটি তো পূর্র্বের বাবে বর্ণিত হাদীসই। কিন্তু ইমাম একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নতুন শিরোনাম কায়েম করেছেন? তা হলো নবী করীম (সা.) কিভাবে অন্যের ময়লা ফেলার স্থানে তাদের অনুমতি ব্যতীত প্রস্রাব করলেন? বিশেষতঃ দেয়ালের নিকট? উক্ত প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য ইমাম বুখারী শিরোনাম কায়েম করেছেন, যেমনটি শাহ সাহেবের উপরিউক্ত বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
উপরিউক্ত প্রশ্নের আরো অনেকগুলি জবাব দেয়া হয়েছে।
১. তা سـبـاطـة قـوم -এর মধ্যে اضـافـت মালিকানা বুঝানোর জন্য নয়; বরং اضـافـت اخـتـصـاص তথা তাদের সাথে খাস অথবা সাধারণ সংশ্লিষ্টতার কারণে اضـافـت হয়েছে। এর প্রমাণ হলো,সাধারণত ময়লা ফেলার স্থানগুলো কারো মালিকানাধীন হয় না; বরং জনকল্যাণমূলক হয়ে থাকে।
২. আর যদি ধরে নেওয়া হয় এটা কারো মালিকানায় ছিল তবুও ওরফী তথা প্রচলিত অনুমতি এরূপ স্থানে যথেষ্ট হয়ে থাকে। এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম এর উপর ভিত্তি করে অনেক মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন। যেমন জমিতে পড়ে থাকা ফল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ওরফী অনুমতি যথেষ্ট।
৩. অথবা নবী করীম (সা.) হয়ত তাদের থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। কারণ, উল্লেখ না থাকা অস্তিত্বে না আসার দলীল নয়।
৪. নবী করীম (সা.)-এর জন্য উম্মতের সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি আছে। কারণ, তার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ হতে ইরশাদ রয়েছে: النبي اولي بالمؤمنين من انفسهم واموالهم
কোন মন্তব্য নেই