পূর্বের সাথে যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট, কারণ উভয় বাব-ই নাপাক দূর করা সম্পর্কিত। প্রথমটি প্রস্রাব হতে, আর দ্বিতীয়টি রক্ত হতে। নাপাকীর ক্ষেত্রে উভয়টিই সমান।
অনুবাদ: হযরত আসমা (রা.) বলেন, একদিন একজন নারী আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল (সা.)! আমাদের কারো যদি ঋতুর রক্ত তার কাপড় স্পর্শ করে, তাহলে সে কি করবে? তিনি বললেন, রক্তের জায়গাটি রগড়াবে। তারপর পানি দিয়ে ঘষে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলবে এবং ঐ কাপড় পরে নামায আদায় করবে।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَتَنْضَحُهُ بالماء اي تغسله -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩৬৩৬ ও ৪৫ পৃষ্ঠায়; তাছাড়া মুসলিম ১৪০, আবু দাউদ ৫২ ও তিরমিযী ২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ ابْنَةُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ، أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ، إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ، وَلَيْسَ بِحَيْضٍ، فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلاَةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ ثُمَّ صَلِّي ". قَالَ وَقَالَ أَبِي " ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ، حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ ".
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, ফাতেমা বিনতে আবু হুবাইশ আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমি একজন রক্ত প্রদর রোগগ্রস্তা নারী। আমি কখনও পবিত্র হই না। এ অবস্থায় আমি কি নামায ত্যাগ করবো? তিনি বললেন, না। কেননা এটা রক্ত শিরা। ঋতু নয়। ঋতু এলে নামায ছাড়বে এবং ঋতু চলে গেলে রক্ত ধুয়ে নামায পড়তে থাকবে। তারপর পুনরায় ঋতু না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযের জন্য অযু করবে।
বাবের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী প্রস্রাবের নাপাকী বর্ণনা করার পর রক্তের নাপাকী বর্ণনা করছেন। অর্থাৎ كلاهما في النجاسة سواء নাপাকীর ক্ষেত্রে উভয়-ই সমান। তার উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, সকল প্রক্রার রক্তই নাপাক, তা হায়েযের রক্ত হোক, ইস্তিহাযার অথবা অন্য কোনো স্থানের। ধৌত করা ব্যতিরেকে তার নাপাকী দূর করার কোনো উপায় নেই।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
ইমাম বুখারী (র.) এ বাবে দুটি হাদীস উলেখ করেছেন। হাদীস দুটি দ্বারা স্পষ্ট বুঝে আসে যে, রক্ত নাপাক। উভয় হাদীসই রক্ত ধোয়ার কথা উলেখ রয়েছে। প্রথম হাদীসে تنضحه অর্থাৎ তা ধুয়ে নিবে। এখানে نضح শব্দটি ধোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে সবাই একমত।
تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، وَتَنْضَحُهُ: প্রবাহিত রক্ত নাপাক হওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মতি রয়েছে। হায়েযের রক্তও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে ক্ষমাযোগ্য পরিমাণ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে।
ইমামগণের মাযহাব:
১. ইমাম আবূ হানীফা, সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীদের মতে রক্ত বা অন্য নাপাকী তা অল্প হলে ক্ষমাযোগ্য। অর্থাৎ, তা নিয়ে নামায পড়লে নামায আদায় হয়ে যাবে।
২. ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে অল্প বেশির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এমনকি একফোটা রক্ত ও তার মতে নাপাক তা কাপড়ে থাকলে নামায হবে না। এক্ষেত্রে তিনি খুব কঠোরতা করেছেন।
৩. ইমাম মালেক (র.) বলেন রক্ত অল্প হলে ক্ষমাযোগ্য, তবে অন্য নাপাকী অল্প হলেও তা ক্ষমাযোগ্য নয়।
হানাফীদের দলীল:
হায়েযের রক্ত অল্প হলে তা ক্ষমাযোগ্য হওয়ার দলীল হলো:
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমাদের নিকট সাধারণত একটিই কাপড় থাকত। তাতে হায়েযও হত। তাতে যদি সামান্য রক্ত থাকত তা হলে থুথু দিয়ে নখ দ্বারা ঘষে তুলে ফেলতাম।
আল্লামা আইনী (রা.) এ হাদীস উলেখ করার পর লিখেন, এ হাদীসটি স্পষ্টভাবে অল্প এবং অধিকের মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে। এ জন্যই ইমাম বায়হাকী শাফেয়ী (রা.) এ হাদীস উলেখ করার পর স্বীকার করেছেন যে, এ অবস্থায় কাপড়ে সামান্য পরিমাণ রক্ত লেগে থাকলে তা ক্ষমারযোগ্য। আর অধিক পরিমাণের বিষয়ে হযরত আয়েশা (রা.) হতেই বর্ণিত তিনি তা ধুয়ে নিতেন। বুঝা গেল, এ বাবের হাদীস অধিক রক্ত সম্পর্কিত। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা রক্ত নাপাকীর ক্ষেত্রে مسفوح (সবেগে নির্গত) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, যা অধিক রক্তের প্রতি ইঙ্গিত করে।
[হায়েয ও ইস্তিহাযা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা যথাস্থানে আসবে ইনশাআল্লাহ।]
কোন মন্তব্য নেই