শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কাতার সোজা করার গুরুত্ব বর্ণনা করা। সুতরাং যখন নামাজের জন্য ইকামত বলা হবে তখন খুবই গুরুত্বের সাথে কাতার সোজা করে নিতে হবে। কেননা, ইকামতের قد قامت الصلوة পর্যন্ত পৌঁছার সময় বা ইকামতের পর সাথে সাথে ইমাম সাহেব তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাজ শুরু করে দিতে হবে। ইমাম বুখারী সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি কাতার সোজা করতে ত্রæটি থেকে যায় প্রথমে কাতার সোজা করতে হবে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
প্রশ্ন: শিরোনামে عند الاقامة وبعدها-এর قيد উলেখ রয়েছে। কিন্তু বাবের অধীনে যে রেওয়ায়েত উলেখ করা হয়েছে তাতে এ কয়েদ নেই? প্রশ্ন হলো মুসান্নিফ (র.) এ কয়েদটি কেন উলেখ করলেন?
উত্তর:
১. বাবের প্রথম হাদীসে আছে لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ এ বাক্যটি خبر কিন্তু انشاء তথা নির্দেশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ নবী করীম (সা.)-এর পক্ষ থেকে নির্দেশ করা হয়েছে যে, নামাজের জন্য কাতারসমূহ সোজা করতে হবে। আর বাবের দ্বিতীয় হাদীসে তো স্পষ্টভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুঝা গেল যে, কাতার সোজা করা খুবই জরুরী বিষয়। আর এ কাজটি ইকামত বলার সময় বা বলার পরপর করতে হয়, তাই ইমাম বুখারী এ ব্যাপকতার কারণে عند الاقامة وبعدها বলে দিয়েছেন।
২. ইমাম বুখারী তার স্বভাবসুলভ এর দ্বারা ঐ হাদীসের অন্য সনদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যেমন মুসলিম শরীফে হযরত নুমান বিন বশীরেরই রেওয়ায়েতে আছে: فقام حتي كاد ان يكبر الخ অর্থাৎ তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, কাছাকাছি ছিল যে, তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলবেন। (অর্থা)ৎ ইকামত হচ্ছিল) এমতাবস্থায় নবী করীম (সা.) এক লোককে দেখলেন যার সিনা কাতারের বাইরে বেরিয়ে রয়েছে। তখন তিনি বললেন হে আল্লাহর বান্দা! কাতার সোজা করে নাও। তাছাড়া বাবের দ্বিতীয় হাদীস যা আনাস (রা.) হতে বর্ণিত তা এর পরের বাবে এ পৃষ্ঠাতেই আসছে: اقيمت الصلوة فاقبل الخ ইকামত হয়ে গিয়েছিল, তারপর নবী করীম (সা.) আমাদের দিকে মুখ করে বললেন: اقيموا صفوفكم তোমরা কাতারসমূহ সোজা করে নাও।
কাতার সোজার করার হুকুম: আল্লামা আইনী (র.) বলেন:فيه الامر بتسوية الصفوف وهي من سنة الصلوة عند ابي حنيفة و الشافعي ومالك رحمهم الله وزعم ابن حزم انه فرض الخ
অর্থাৎ জুমুহূর ফোকাহায়ে কেরামের মতে কাতার সোজা করা সুন্নত। শুধুমাত্র ইবনে হাযাম (র.) একে ফরজ বলেন। তিনি আরো বলেন কাতার সোজা না করলে নামাজ ফাসেদ হয়ে যাবে। কিন্তু এ মাযহাবটি হলো বিরল। : ওমদাতুল কারী
أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ : এ বাক্যটির দুটি অর্থ হতে পারে। যথা:
১. এখানে وجوه দ্বারা উদ্দেশ্য হবে ব্যক্তি। তখন অর্থ হবে তোমাদের মাঝে শত্রæতা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে যাবে। পরস্পরের মাঝে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ে যাবে।
২. অথবা এটি হাকীকী ও যাহেরী অর্থাৎ মুখ উদ্দেশ্য হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের চেহারা বিকৃতি করে দিবেন; মানুষের চেহারা গাধার চেহারায় পরিণত করে দিবেন।
فَإِنِّي أَرَاكُمْ خَلْفَ ظَهْرِي : আল্লামা আইনী (র.) বলেন, এক্ষেত্রে তাবীলের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এটি হাকীকী অর্থেই প্রয়োগ হবে। কারণ, এটি নবী করীম (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য ও তাঁর মো’জেযা।
বি ঃ দ্রঃ এ সম্পর্কিত আলোচনা অতীত হয়েছে। দেখুন হাদীস নং ৬৬৪
কোন মন্তব্য নেই