পরিচ্ছেদ: নামাযীর সম্মুখ দিয়ে যেতে লাগলে বাধা দেয়া। ইবনে ওমর (রা.) আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় এবং কা’বার মধ্যে অতিক্রমকারীকে বাধাপ্রদান করেছেন, এবং বললেন যদি কোনো অতিক্রমকারী লড়াই করা ব্যতীত বিরত না হয় তাহলে তার সাথে লড়াই করতে হবে।
অনুবাদ: হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী (রা.) বলেন, কোনো এক জুম'আর দিনে কিছু জিনিস সামনে রেখে, তার সাহায্যে নিজেকে মানুষ থেকে আড়াল করে নামায আদায় করছিলেন। এমন সময় আবু মুআ'ইত গোত্রের এক যুবক তার সামনে দিয়ে যাবার চেষ্টা করলো। আবু সা'ঈদ তার বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলেন। কিন্তু যুককটি তার সামনে দিয়ে যাওয়া ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো পথ পেল না। সুতরাং সে পুনরায় যেতে উদ্যোগী হলো। আবু সা'ঈদ আগের তুলনায় আরও জোরে তাকে ধাক্কা দিলেন। ফলে সে আবু সা'ঈদকে অপমানিত করলো। তারপর সে মারওয়ানের কাছে গিয়ে আবু সা'ঈদের ব্যবহার সম্পর্কে অভিযোগ করলো। আবু সা'ঈদও তার পিছনে পিছনেই মারওয়ানের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। মারওয়ান বললেন, হে আবু সা'ঈদ! আপনার ও আপনার ভ্রাতুস্পুত্রের মধ্যে কি হয়েছে? আবু সা'ঈদ বললেন, আমি আল্লাহর নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি যখন তোমাদের কেউ কোনো জিনিস সামনে রেখে লোকজনকে তা দিয়ে আড়াল করে নামায আদায় করে এবং সেই অবস্থায় কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। তাতে যদি সে না থামে তাহলে সে যেনো তার সাথে লড়াই করে। কারণ সে নিশ্চয়ই শয়তান।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: যেহেতু হাদীস শরীফে فليدفعه শব্দের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, এ امر টি কিসের জন্য? ১. হানাফীদের মতে বৈধতার জন্য, অর্থাৎ অনুমতি আছে। ২. আর ইমামত্রয়ের মতে মুস্তাহাবের জন্য। ৩. যাহেরীদের মতে ওয়াজিবের জন্য। ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জুমহূর তথা ইমামত্রয়ের মাযহাবের সমর্থন ও আনুকূল্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করা মুস্তাহাব- ওয়াজিব নয়।
ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে দুটি জিনিস উল্লিখিত হয়েছে। ১. دفع المار অর্থাৎ নামাযীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করা; বাধাপ্রদান করা। ২. مقاتلة অর্থাৎ অতিক্রমকারী যদি ইশারা-ইঙ্গিত বা তাসবীহ দ্বারা বিরত না হয় তাহলে কঠোরতা করে তাকে বিরত করতে হবে অর্থাৎ প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে তাকে বিরত করতে হবে। অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করার একটি উপকারিতা হলো মুসল্লীর। কেননা, তাঁর খুশু বিদূরীত হবে না। আর দ্বিতীয় উপকারিতা হলো অতিক্রমকারীর। অর্থাৎ নামাযীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ হতে বেঁচে গেল।
দ্বিতীয় জিনিস হলো مقاتلة; এ সম্পর্কে কাজী ইয়ায বলেন- اجمعوا علي انه لا تلزمه مقاتلته بالسلاح ولا بما يؤدي الي هلاكه الخ অর্থাৎ অস্ত্র দ্বারা অস্ত্রসদৃশ বস্তু যা দ্বারা ধ্বংস করা হয় এমন জিনিস দ্বারা প্রতিহত করা আবশ্যক নয়; কেননা, এমতাবস্থায় আমলে কাছীর হবে, যা নামায ভঙ্গকারী হব।
তাই এটি তাবীলের মুখাপেক্ষী। তা হলো-
১. এটি হলো কঠোরতাস্বরূপ ইঙ্গিত করা; মূলতঃ যুদ্ধ-বিগ্রহের অনুমতিপ্রদান উদ্দেশ্য নয়।
২. কিতাল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অভিশম্পাত।
৩. এটি মনসূখ হয়ে গেছে। এটা তখনকার কথা যখন নামাজে কাজ করা ও কথা বলা জায়েয ছিল। কিন্তু যখন আয়াত قوموا لله قانتين অবতীর্ণ হলো তখন এ সব কিছু রহিত হয়ে যায়।
৪. কারো কারো মতে, নামাজের পরবর্তীর জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নামাজের পরে সতর্ক করে দিবে। মোটকথা নামাযীকে তো নামাযরত অবস্থায় دفع المار হতেও বিরত থাকা চাই, কিতাল ও ফ্যাসাদ তো দূরের কথা।
কোন মন্তব্য নেই