অনুবাদ: হযরত আবু জুহাইম (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী এটা তার জন্য কত বড় গুনাহের কাজ, যদি জানতো তাহলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে চল্লিশ (বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো। বর্ণনাকারী আবুন-নযর বলেন, (আমার শিক্ষক বুসর) চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন, তা আমি জানি না। হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য لَوْ يَعْلَمُ الْمَارّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ ُ -এর সাথে। হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। শিরোনামের উদ্দেশ্য: পূর্বের বাবের হাদীসে ছিল فليدفعه তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এতে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। ১. মুসল্লীর ফায়েদা, যেন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নষ্ট না হয় এবং নামাজের খুশু’-খুযু’ নষ্ট না হয়। ২. অতিক্রমকারীর ফায়েদা, যেন তার গুনাহ না হয়। ইমাম বুখারীর মনোভাব সেটিই মনে হচ্ছে। যেমনটি তরজমা দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝে আসছে। ইমাম বুখারী শিরোনাম প্রমাণের জন্য হাদীসের শব্দ ماذا عليه اي من الاثم উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ অতিক্রমকারী যদি মুসল্লীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে সে গুনাহগার হবে। তাই সেই গুনাহ ও গুনাহের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য فليدفعه-র নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তি পথ অতিক্রম করছে, আর তার সম্মুখে রয়েছে কূপ, যাতে তার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন ঐ মুসল্লীর নামায ভেঙ্গে দেওয়া উচিত। তেমনিভাবে এখানে যেহেতু অতিক্রমকারী একটি জঘন্য ক্ষতির সম্ভাবনাগ্রস্ত-তাকে বাঁচানো জরুরী। তাই নির্দেশ হয়েছে-فليدفعه
أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا ১. এখানে রেওয়ায়েতে অস্পষ্টতা রয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো রেওয়ায়েতে যেমন মুসনাদে বাযযারে ইবনে উয়াইনা সূত্রে আছে- لكان ان يقف اربعين خريفا এর দ্বারা বুঝা গেল যে, চল্লিশ বছর দাঁড়িয়ে থাকা পছন্দ করবে; কিন্তু নামাযীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার সাহস পাবে না।
কোন মন্তব্য নেই